News Ticker
221.png

ইউক্রেইনের শপিং মলে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৭

শেয়ার

শেয়ার

ইউক্রেইনের শপিং মলে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ৫
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর পাভলোহরাদে শপিং সেন্টার ও বাণিজ্যিক এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় চালানো এই হামলায় দোকানপাট, যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হামলার পর পাভলোহরাদে শুক্রবার শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। শহরটি ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সরবরাহ নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটের কাছাকাছি হওয়ায় রুশ হামলার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। 

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ ড্রোনগুলো পাভলোহরাদের কেন্দ্রীয় অংশে আঘাত হানে। হামলার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। দোকানপাট ও আশপাশে থাকা যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় পাঁচজন নিহত হন এবং ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে আরও কয়েকটি হামলায় দুইজন নিহত হন। একই অঞ্চলে মোট ৭৬ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানঝা। 

হামলার পর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। হামলার পর উদ্ধারকারী ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের আশপাশে তল্লাশি চালান। 

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার চলমান হামলার অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইউক্রেনের অভিযোগ, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।

পাভলোহরাদ পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে শহরটি সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

রয়টার্স জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ইউক্রেন থেকে পূর্বাঞ্চলের ফ্রন্টলাইনে সামরিক সরবরাহ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পাভলোহরাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে শহরের বিভিন্ন অবকাঠামো অতীতেও হামলার ঝুঁকিতে ছিল।

তবে শপিং সেন্টারটি সরাসরি রুশ হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

পাভলোহরাদের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরেও রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

রাজধানী কিয়েভে শুক্রবার রুশ বিমান হামলায় একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে আগুন লাগে এবং অন্তত আটজন আহত হন। একই সময়ে শহরের দুটি পেট্রল স্টেশনেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। 

ডিনিপ্রো শহরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষি কোম্পানি বাঞ্জের একটি সূর্যমুখী তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনাতেও হামলা হয়। সেখানে দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। 

এর একদিন আগে উত্তর ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী শহর সুমিতে একটি শপিং সেন্টারে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। প্রথমে তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে স্থানীয় গভর্নর নিহতের সংখ্যা সংশোধন করে দুইজন করেন।

ওই হামলায় ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর এবং চারজন কিশোর রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার পর শপিং সেন্টারটিতে আগুন ধরে যায় এবং ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

রাশিয়া সাধারণত ইউক্রেনে পরিচালিত হামলাগুলোকে সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে এবং বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ক্রমবর্ধমানভাবে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এসব হামলাকে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। 

চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে হামলার লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে উভয় পক্ষের বক্তব্য সবসময় স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। রয়টার্সও সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কিছু তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

রাশিয়ার হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চল, দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও কাস্পিয়ান সাগরের ওপর মোট ৭৭৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।

তুলা অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ে সংঘাত কমার লক্ষণ খুব স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু একই সময়ে দুই পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

ChannelNRB Footer