যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটি আবারও ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মজুত থাকা বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সীমিত পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কয়েকটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সংযোজনের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজির (Khojir) ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাও রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিমান হামলা থেকে উৎপাদন অবকাঠামো রক্ষায় নতুন ভূগর্ভস্থ অ্যাসেম্বলি বা সংযোজন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
WSJ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ইরান যে মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করত, বর্তমানে তার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। মূলত আগে থেকে মজুত থাকা যন্ত্রাংশ ও উপাদান ব্যবহার করেই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হচ্ছে।
তবে ইরানের হাতে থাকা মজুত উপাদানের পরিমাণ এবং কতগুলো ভূগর্ভস্থ স্থাপনা কার্যকর রয়েছে, তার ওপর ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতা নির্ভর করবে। সংশ্লিষ্ট একজন বিশেষজ্ঞের ধারণা, পরিস্থিতি অনুযায়ী ইরান শত শত, এমনকি হাজারের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে তরল-জ্বালানি ও কঠিন-জ্বালানি—দুই ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই সংযোজন করছে। তরল-জ্বালানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে জ্বালানি ভরতে হয়। অন্যদিকে কঠিন-জ্বালানি ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলকভাবে আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় তার প্রস্তুত মজুত কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেশটির হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার খবরটি যুক্তরাষ্ট্রের আগের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিন্তু নতুন গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা এখন বলছেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর একটি অংশ টিকে আছে এবং সেখান থেকে উৎপাদন বা সংযোজন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ উৎপাদন কেন্দ্র ব্যবহার করলে বিমান হামলার ঝুঁকি কমানো যায় এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুরক্ষা পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি আরও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ও সুরক্ষিত অবকাঠামোর দিকে ঝুঁকছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় পুনর্গঠন ও প্রবেশপথ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রমও দেখা গেছে বলে WSJ জানিয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার খবর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান যদি ধীরে ধীরে তার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ সংঘাতে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
Reuters-ও WSJ-এর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে আগের তুলনায় সীমিত পরিমাণে বিদ্যমান উপাদান ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বা সংযোজন করছে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
আরও পড়ুন:







