নরওয়ের রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড মারা গেছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ৯৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে নরওয়ের রাজপ্রাসাদ। তিনি ছিলেন দেশটির প্রয়াত রাজা হারাল্ড পঞ্চমের বড় বোন।
রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য আরও একটি বড় শোকের ঘটনা হয়ে এসেছে। এর মাত্র দুই দিন আগে, ৯ সেপ্টেম্বর, তাঁর ভাই রাজা হারাল্ড পঞ্চমের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে অ্যাস্ট্রিড নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জীবনে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড উষ্ণতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বর্তমান রাজা হাকন অষ্টম তাঁর পিসির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি অ্যাস্ট্রিডকে রাজপরিবারের প্রতি দীর্ঘদিনের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক সেবার জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে রাজপ্রাসাদে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে রাজপ্রাসাদের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল তাঁর ভাই রাজা হারাল্ড পঞ্চমের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়। ৯ সেপ্টেম্বর অসলো ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাজপরিবারের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজপরিবার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
রাজা হারাল্ড ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। তিন দশকেরও বেশি সময় নরওয়ের সিংহাসনে থাকার পর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রাজপরিবারে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটে। তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম নতুন রাজা হন।
অ্যাস্ট্রিড ছিলেন রাজা ওলাভ পঞ্চম এবং প্রিন্সেস মার্থার কন্যা। তাঁর ভাই হারাল্ডের পাশাপাশি তিনি নরওয়ের রাজপরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
১৯৫৪ সালে তাঁদের মা প্রিন্সেস মার্থা মারা যাওয়ার পর অ্যাস্ট্রিড রাজপরিবারের জনসেবামূলক ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল। যুদ্ধের সময় নরওয়ে নাৎসি জার্মানির দখলে চলে গেলে রাজপরিবারের সদস্যরা দেশ ছাড়েন। পরে ১৯৪৫ সালে তিনি নরওয়েতে ফিরে আসেন।
৯৪ বছর বয়সেও অ্যাস্ট্রিডকে বিভিন্ন রাজকীয় অনুষ্ঠানে দেখা যেত। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যেও তিনি তাঁর ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর তিনি হৃদ্যন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন হয়েছিল। পরে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পান।
অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু এমন সময়ে হলো, যখন নরওয়ের রাজপরিবার সদ্য রাজা হারাল্ড পঞ্চমকে হারিয়েছে। ২৮ আগস্ট তাঁর মৃত্যু এবং ৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর খবর রাজপরিবার ও দেশটির মানুষের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।
রাজা হারাল্ডের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় নরওয়ের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন রাজপরিবারের সদস্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অসলো শহরের রাস্তায় হাজারো মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







