News Ticker
221.png

লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যা বলল হুথি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪০

শেয়ার

শেয়ার

লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যা বলল হুথি
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে। সর্বশেষ অগ্রযাত্রায় তারা প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত কৌশলগত মায়ুন বা পেরিম দ্বীপ এবং ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ডের ধুবাব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। 

বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। ফলে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, তেল পরিবহন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার হুতি বাহিনী বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত মায়ুন দ্বীপে পৌঁছেছে। ইয়েমেন সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, সরকারপন্থী বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যাওয়ার পর হুতিরা সেখানে অবস্থান নেয়। একই সময়ে প্রণালির অপর পাশে থাকা ধুবাব উপকূলীয় শহরও তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। 

মায়ুন দ্বীপের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটি প্রণালির মাঝামাঝি থাকায় এখান থেকে বাব আল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নজরদারি ও সামরিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।

হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযান শুরু হয় ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের মধ্য দিয়ে। এরপর তারা দক্ষিণ দিকে এগিয়ে হানিশ দ্বীপপুঞ্জ, ধুবাব এবং শেষ পর্যন্ত মায়ুন দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়।

এই দ্রুত অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সরকারপন্থী বাহিনী ইতোমধ্যে হারানো এলাকাগুলো পুনর্দখলের জন্য পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এটি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ এবং সুয়েজ খালভিত্তিক বাণিজ্যপথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই পথে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ বাড়বে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।

হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে সৌদি আরবের জন্য। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব লোহিত সাগরমুখী বিকল্প রুটের ওপর বেশি নির্ভর করছে। সেই পথেও যদি নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়, তাহলে দেশটির তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়তে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আগস্টে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছিল—যা তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

২০২৩ সাল থেকেই হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বহু বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প রুট নিতে হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ব্যয় বেড়েছে এবং পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লেগেছে।

নতুন করে বাব আল-মান্দেবের আশপাশে হুতিদের সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী হওয়ায় জাহাজ মালিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এপি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর থেকে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

হুতিদের অগ্রগতির পর ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য মোখাসহ হারানো উপকূলীয় অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো পুনর্দখল করা।

এতে বাব আল-মান্দেব ও ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলকে ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে বেসামরিক জনগণের ওপরও এর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer