News Ticker
221.png

ইসরায়েলের হামলা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল লেবানন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৭

শেয়ার

শেয়ার

ইসরায়েলের হামলা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল লেবানন
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি বড় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করতে এক হাজার টনের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের পর দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আলি আল-তাহের রিজ এলাকায়। 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, আলি আল-তাহের রিজের নিচে থাকা হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এই অভিযান চালানো হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা দুটি টানেলের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ছিল দুই কিলোমিটারের বেশি। 

বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের এলাকায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কম্পনের মাত্রা ৪ দশমিক ১ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বিস্ফোরণটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নাবাতিয়েহ ও আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পন অনুভূত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে আতঙ্কে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইডিএফের দাবি, ধ্বংস করা স্থাপনাটি হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের একটি কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, মাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরক মজুত ছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, ভূগর্ভস্থ এই অবকাঠামো দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, স্থাপনাটি ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আলি আল-তাহের রিজ দক্ষিণ লেবাননের একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ইসরায়েলি বাহিনী সম্প্রতি ওই এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে। এরপর সেখানে থাকা ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযান চালানো হয়।

ইসরায়েলের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা কমাতে এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ChannelNRB Footer