News Ticker
221.png

ইতালির বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মিলল মমি করা কুমিরের মাথা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৭

শেয়ার

শেয়ার

ইতালির বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মিলল মমি করা কুমিরের মাথা
ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে শুকনো ও সংরক্ষিত একটি কুমিরের মাথা উদ্ধার করেছেন নিরাপত্তা ও শুল্ক কর্মকর্তারা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ইতালির তুরিনের ক্যাসেলে বিমানবন্দরে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই যাত্রী যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে ইতালিতে পৌঁছান। তুরিন বিমানবন্দরে তার লাগেজ তল্লাশির সময় বাদামি কাগজে মোড়ানো অবস্থায় কুমিরের মাথাটি পাওয়া যায়। সেটি যাতে সহজে নিরাপত্তাকর্মীদের নজরে না পড়ে, সেভাবেই প্যাকেটটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইতালির আর্থিক পুলিশ ও সীমান্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে যাত্রীর লাগেজ পরীক্ষা করেন। তখনই কাগজে মোড়ানো অস্বাভাবিক প্যাকেটটি তাদের নজরে আসে।

প্যাকেট খুলে কর্মকর্তারা দেখতে পান, এর ভেতরে রয়েছে একটি শুকনো কুমিরের মাথা। পরে সেটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো ধরনের স্যুভেনির হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় অনুমতি বা সনদ ছাড়া এমন সংরক্ষিত প্রাণীর অংশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে নেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। 

ঘটনার পর ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি; তবে সংরক্ষিত প্রজাতির প্রাণীর অংশ অনুমোদনহীনভাবে ইতালিতে আমদানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ইতালীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুমিরের মতো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমতি ও সনদ প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া প্রাণীর দেহাবশেষ আমদানি আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই যাত্রীর জন্য বড় অঙ্কের জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অপরাধে ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। 

ইতালির কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। দেশটি ইউরোপে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ও বিপন্ন প্রাণী পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনলাইনে ও সীমান্তপথে কচ্ছপ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সরীসৃপ ও অন্যান্য প্রাণীর অবৈধ বাণিজ্যের ঘটনা ঘটে। কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত থাকলেও পর্যটকদের কেউ কেউ বিষয়টির আইনগত গুরুত্ব না বুঝেই শুকনো প্রাণীর দেহাবশেষ বা এমন স্যুভেনির দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ChannelNRB Footer