News Ticker
221.png

ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করল ইরাক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩১

আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪৫

শেয়ার

শেয়ার

ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করল ইরাক
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ইরান-ইরাক সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। সাময়িক এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও বাণিজ্যিক চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

নিরাপত্তা বিষয়ক দুটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে প্রধান স্থলপথগুলোর একটি শালামচেহ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শালামচেহ ও চাজাবেহ—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথে যাত্রী ও বাণিজ্যিক চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

হামলার পর সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট হিসেবে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। 

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মায়সান প্রদেশের সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা এক কমান্ডারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরাকি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার উৎস সম্পর্কে তদন্তের পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

ইরান ও ইরাকের মধ্যে শালামচেহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। বিশেষ করে ইরান থেকে ইরাকে খাদ্যপণ্য, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পথের গুরুত্ব রয়েছে। সীমান্ত বন্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরাকের স্থানীয় বাজারে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের উপ-গভর্নর ভ্যালিওল্লাহ হায়াতি ব্যবসায়ী, চালক ও যাত্রীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ সীমান্তপথগুলোর দিকে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী ঘোষণা দেবে বলে জানানো হয়েছে।

ইরাক-ইরান সীমান্ত বন্ধের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মানদাব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। 

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজনিত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি তেল পাইপলাইন বন্ধ এবং ইরাক-ইরান সীমান্তে নতুন বিধিনিষেধ আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer