News Ticker
221.png

২ হাজার ২০০ বছর পরও পাত্রে তরল পানীয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৯

শেয়ার

শেয়ার

২ হাজার ২০০ বছর পরও পাত্রে তরল পানীয়
ছবি: সংগৃহীত

মাটির নিচে প্রায় ২ হাজার ২০০ বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা একটি ব্রোঞ্জের পাত্র খুলতেই চমকে উঠেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। পাত্রটির ভেতরে এখনো প্রায় ৩ দশমিক ৭৪ লিটার তরল পাওয়া গেছে। গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে, এটি প্রাচীনকালের শস্যভিত্তিক গাঁজন করা অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নিংজিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি প্রাচীন সমাধি থেকে পাত্রটি উদ্ধার করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, সমাধিটি চীনের যুদ্ধরত রাজ্যসমূহের (Warring States period) সময়কার, অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭৫ থেকে ২২১ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। 

গবেষকদের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল পাত্রের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ তরল এখনো সংরক্ষিত থাকা। পরীক্ষায় তরলের মধ্যে বাজরা ও গমজাতীয় শস্যের উপাদান, মাড়ের দানা এবং ইস্টের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এসব উপাদানের উপস্থিতি থেকে গবেষকেরা মনে করছেন, এটি ফলের ওয়াইন নয়; বরং শস্য গাঁজন করে তৈরি এক ধরনের প্রাচীন অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়। কিছু প্রতিবেদনে একে প্রাচীন ‘বিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও গবেষকেরা এটিকে শস্যভিত্তিক fermented beverage হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

এত দীর্ঘ সময় পরও পাত্রে তরল থাকার বিষয়টি গবেষকদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে, পাত্রটির মুখ কাপড়জাতীয় উপাদান, কাদা ও অন্যান্য জৈব উপকরণ দিয়ে একাধিক স্তরে শক্তভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।

এর সঙ্গে ওই অঞ্চলের তুলনামূলক শুষ্ক পরিবেশও তরলটি সংরক্ষিত থাকার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। ফলে বাইরের পানি বা বাতাস সহজে পাত্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে এত ভালো অবস্থায় তরল সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারে প্রাচীন পানীয়ের শুধু শুকনো অবশেষ বা রাসায়নিক চিহ্ন পাওয়া যায়; কিন্তু এখানে প্রায় ৩.৭৪ লিটার তরল পাওয়া গেছে। 

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, পানীয়টি মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সমাধিতে রাখা হয়েছিল। প্রাচীন চীনা সমাজে মৃত ব্যক্তির পরকালীন জীবনের জন্য খাবার, পানীয় ও অন্যান্য সামগ্রী সমাধিতে দেওয়ার রীতি ছিল।

ফলে পাত্রের এই পানীয় শুধু প্রাচীন মানুষের খাদ্যাভ্যাসের তথ্যই দিচ্ছে না; বরং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রীতি এবং সামাজিক সংস্কৃতি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

আবিষ্কারটি প্রাচীন চীনের মানুষের পানীয় তৈরির প্রযুক্তি সম্পর্কেও নতুন ধারণা দিচ্ছে। শস্য নির্বাচন, গাঁজনের প্রক্রিয়া এবং পানীয় সংরক্ষণের কৌশল সে সময় বেশ উন্নত ছিল বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।

বিশেষ করে পাত্রটির ভেতরে পাওয়া ইস্ট ও শস্যজাত উপাদান প্রাচীন চীনে গাঁজন প্রযুক্তির ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

ChannelNRB Footer