গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া দুটি রিং-টেইলড লেমুর ভারতের গুজরাটে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বনতারায় রয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বনতারার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে লেমুর চুরির ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত। তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশের কোনো তদন্তকারী সংস্থা তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়নি। একই সঙ্গে সংবাদ প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের কারও সঙ্গে বনতারার কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়নি বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বনতারার ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানের আওতায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর যাবতীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে তারা প্রস্তুত। প্রাণীগুলোর পরিচয় বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে বনতারা।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া লেমুর এবং বনতারায় থাকা দুটি লেমুর একই প্রাণী—এমন দাবি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে ২০২৫ সালের মার্চে তিনটি লেমুর চুরি হয়। তদন্তে পরে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানতে পারে, দুটি লেমুর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছিল। তবে সিআইডি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি যে ভারতে পাচার হওয়া ওই দুটি লেমুরই বর্তমানে বনতারায় রয়েছে।
তদন্তে আটজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া গেছে। সিআইডির অনুসন্ধান অনুযায়ী, চক্রটি তিনটি লেমুরের মধ্যে দুটি ভারতে পাচার করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেমুর দুটির পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ডিএনএ পরীক্ষা। কারণ, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়ার আগে ওই দুটি লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা হয়নি।
চুরি হওয়া তিনটি লেমুরের মধ্যে একটি পরে ঢাকার শ্যামবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে ফেরত নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রাণীটি পরবর্তী সময়ে মারা যায়। তার সংরক্ষিত নমুনা থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলের সঙ্গে ভারতে থাকা লেমুরগুলোর ডিএনএ তুলনা করা গেলে তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই পরিবারের প্রাণী হওয়ায় ডিএনএ বিশ্লেষণ এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিতে পারে। ভবিষ্যতে মূল্যবান ও বিরল বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা হলে এ ধরনের পাচার বা চুরির ঘটনায় প্রাণীর উৎস শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে।
গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলো মূলত বাংলাদেশে পাচারের সময় উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে একটি পুরুষ ও একটি মাদি রিং-টেইলড লেমুর জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়।
সাফারি পার্কে থাকা অবস্থায় ওই লেমুর জোড়া দুটি বাচ্চার জন্ম দেয়। পরে একটি লেমুর মারা যায়। এরপর পার্কে থাকা তিনটি লেমুরের মধ্যে দুটি প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি বাচ্চা ছিল। ২০২৫ সালের মার্চে সেগুলো চুরি হয়। পরে একটি উদ্ধার করা গেলেও দুটি নিখোঁজ থাকে।
বনতারার বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে লেমুর পাচার করে সেখানে বিক্রি করার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইনসম্মত কোনো অনুরোধ এলে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
ফলে এখন পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিএনএ পরীক্ষা। পরীক্ষার ফলেই জানা যাবে, গুজরাটের বনতারায় থাকা দুটি রিং-টেইলড লেমুর সত্যিই গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া প্রাণী কি না।
আরও পড়ুন:







