News Ticker
221.png

সিরিয়ার কারাগারে অগ্নিকাণ্ডের পর কয়েদিদের দাঙ্গা, নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৪

শেয়ার

শেয়ার

সিরিয়ার কারাগারে অগ্নিকাণ্ডের পর কয়েদিদের দাঙ্গা, নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের কুর্দি-অধ্যুষিত শহর কোবানির একটি কারাগারে দাঙ্গার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কারাগারের বন্দিদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। পরে কারাগারের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর হয়।

ব্রিটেনে অবস্থিত সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, কয়েকজন বন্দিকে উত্তরাঞ্চলের আলেপ্পো শহরের একটি কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থেকেই মূলত উত্তেজনা তৈরি হয়।

বন্দিরা স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ ও দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কারাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

তবে কারাগারে আগুন কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং নিহত সাতজনের সবাই বন্দি কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কারাগারের এই দাঙ্গার আগে শুক্রবার কোবানিতে কুর্দি ও আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনার পেছনে এক কুর্দি ব্যক্তিকে আরবদের হাতে হত্যার অভিযোগ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

পরদিন সেই উত্তেজনার প্রভাব কারাগারেও ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের দাঙ্গার সঙ্গে শহরে আগের দিনের জাতিগত উত্তেজনারও সম্পর্ক ছিল। 

তুরস্ক সীমান্তের কাছে অবস্থিত কোবানি দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় শহরটি আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

২০১৯ সালে মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে সিরিয়ায় আইএসের নিয়ন্ত্রিত শেষ ভূখণ্ডগুলো দখলমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় কোবানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগের কারণে কুর্দি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নতুন সরকারের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সম্প্রতি কোবানিতে প্রবেশ করলেও কারাগারটি এখনো কুর্দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

এদিকে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) আগস্টের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়। এর আগে সংগঠনটি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন পরিচালনা করত।

দাঙ্গা ও অগ্নিকাণ্ডের পর কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে কারাগারে মোট কতজন বন্দি ছিলেন, কতজন আহত হয়েছেন এবং আগুনে কারাগারের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির কারণ এবং দাঙ্গার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। শহরে সাম্প্রতিক কুর্দি-আরব উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কারাগারের এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিরিয়ার দীর্ঘ সংঘাতের পর নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার মধ্যেই কোবানির কারাগারে এই প্রাণঘাতী দাঙ্গা দেশটির উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। 

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

ChannelNRB Footer