ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া ফেরি Virgo Transport 8-এর হদিস মিলেছে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটি উল্টে যাওয়ার পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও প্রায় ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ফেরিটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশের বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এতে ২১৩ জন যাত্রী ও ৩০ জন ক্রুসহ মোট ২৪৩ জন আরোহী ছিলেন। রোববার ভোরে জাভা সাগরে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে ফেরিটির নাবিক খারাপ আবহাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে ফেরিটি কাত হয়ে যাওয়ার খবর আসে। এরপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি জানার পরপরই ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা Basarnas উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিনটি জাহাজের মাধ্যমে ১০৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০১ জন জীবিত এবং ছয়জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ প্রায় ১৩০ জনের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চলছে।
উদ্ধার অভিযানে KN SAR Laksmana, KRI Nala, KM Kunyitসহ বিভিন্ন নৌযান এবং একটি হেলিকপ্টার অংশ নিয়েছে। আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত করা হয়েছে।
জাভা সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল ফেরিটির সর্বশেষ অবস্থান ঘিরে সমুদ্র ও আকাশপথে তল্লাশি চালাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও উদ্ধারকারী নৌযান ও বিমান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ফেরিটি ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানান, জাহাজটি মূলত উল্টে গেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নৌবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা বানজারমাসিনে উদ্ধার কার্যক্রমের কমান্ড সেন্টারে জড়ো হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ফেরিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







