News Ticker
221.png

ডেনমার্কে বাড়ির বাগান খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো ভাইকিং যুগের গুপ্তধন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫২

শেয়ার

শেয়ার

ডেনমার্কে বাড়ির বাগান খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো ভাইকিং যুগের গুপ্তধন
ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির পেছনের বাগানে নতুন টেরেস তৈরির জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন ডেনমার্কের এক বাসিন্দা। হঠাৎ বাগানের কাঁটাচামচের মতো একটি সরঞ্জাম মাটির নিচে থাকা শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা খায়। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ ধাতব বা মাটির পাত্রের টুকরো মনে হলেও পরে বেরিয়ে আসে প্রায় ১ হাজার বছরের পুরোনো বিপুল পরিমাণ রুপার সম্পদ। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি ডেনমার্কে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ভাইকিং যুগের রুপার গুপ্তধন। 

ডেনমার্কের Rebild এলাকায় পাওয়া এই গুপ্তধনে রয়েছে প্রায় ৭০০টি বস্তু ও খণ্ডাংশ, যার সম্মিলিত ওজন প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কেজি। এর মধ্যে রয়েছে রুপার বার, অলংকার, কাটা রুপার টুকরো, মুদ্রা এবং একটি ছোট থরের হাতুড়ি—নর্স পুরাণের দেবতা থরের সঙ্গে সম্পর্কিত বহুল পরিচিত প্রতীক। 

প্রত্নতাত্ত্বিকদের তথ্য অনুযায়ী, গুপ্তধনের প্রায় ৩২০টি বস্তু একটি মাটির পাত্রের ভেতরে ছিল। ওই অংশের ওজন প্রায় ৬ দশমিক ৪ কেজি। পাত্রের বাইরে আশপাশের মাটিতেও ছড়িয়ে ছিল আরও বহু রুপার সামগ্রী। 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সম্পদটি ১০ম শতাব্দীতে, অর্থাৎ ভাইকিং যুগে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আবিষ্কারের ঘটনাটি আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে কারণ বাড়ির মালিক কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক খনন করছিলেন না; তিনি শুধু নতুন টেরেস তৈরির জায়গা প্রস্তুত করছিলেন। 

গুপ্তধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মুদ্রাগুলো। এতে ৪৭টি পূর্ণ মুদ্রা ও মুদ্রার খণ্ডাংশ পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের রাজা Edward the Elder-এর শাসনামলের মুদ্রার পাশাপাশি ইসলামি বিশ্বের রুপার দিরহামও রয়েছে। 

এ ধরনের মুদ্রার উপস্থিতি ভাইকিংদের বিস্তৃত বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ, ভাইকিংদের অর্থনীতি কেবল স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; পশ্চিম ইউরোপ থেকে শুরু করে ইসলামি বিশ্বের সঙ্গেও তাদের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।

বিশেষজ্ঞদের কাছে গুপ্তধনটির মূল্য শুধু বিপুল পরিমাণ রুপার কারণে নয়। বিভিন্ন ধরনের অলংকার, মুদ্রা, রুপার বার এবং কেটে রাখা রুপার টুকরোর উপস্থিতি থেকে ভাইকিংদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কিছু রুপার বারে খ্রিস্টীয় ক্রস এবং নর্স প্রতীকও দেখা গেছে। এর ফলে সেই সময় ডেনমার্কে খ্রিস্টধর্মের বিস্তার এবং প্রচলিত নর্স ধর্মীয় বিশ্বাসের সহাবস্থান বা পরিবর্তনের বিষয়টিও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। একটি রুপার বারে রুনিক চিহ্নও রয়েছে, যা সম্ভবত মালিকানা বা পরিচয় নির্দেশ করতে পারে। 

এখনও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন এত বিপুল সম্পদ মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল?

এর নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সম্পদ রক্ষার প্রয়োজন কিংবা মালিকের মৃত্যুর মতো বিভিন্ন সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।

আরও আকর্ষণীয় বিষয় হলো, রুপার বস্তুগুলো নির্দিষ্ট ওজন অনুযায়ী সাজানো ছিল বলে গবেষকদের ধারণা। এতে বোঝা যায়, এগুলো কেবল অলংকার হিসেবে নয়, ওজনভিত্তিক রুপার অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। 

এই আবিষ্কারের আগে ডেনমার্কের সবচেয়ে বড় ভাইকিং যুগের রুপার গুপ্তধন ছিল Terslev Hoard, যা ১৯১১ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। সেটির ওজন ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৫ কেজি। নতুন আবিষ্কৃত গুপ্তধনের ওজন প্রায় ১৮ দশমিক ৫ কেজি—অর্থাৎ আগের রেকর্ডের প্রায় তিন গুণ। 

প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে তাই এই আবিষ্কারকে ডেনমার্কের ভাইকিং যুগের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ChannelNRB Footer