News Ticker
221.png

সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:০৮

শেয়ার

শেয়ার

সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা সম্ভব না হলে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এই পাইপলাইনটি হামলার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাইপলাইনটি সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল রপ্তানির সুযোগ দেয়।

সৌদি আরবের East-West Pipeline প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছাতে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে এটি সৌদি আরবের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রয়টার্স জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যায়। এই পরিমাণ বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। ফলে দীর্ঘ সময় পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইনটির রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে একাধিক হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এটি বন্ধ করা হয়। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জরুরি ও কারিগরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইপলাইনের নিরাপত্তা এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে।

তবে পাইপলাইনটি ঠিক কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। বিভিন্ন বিশ্লেষণে মেরামতের সময় কয়েক দিন থেকে এক মাসেরও বেশি হতে পারে বলে সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। 

পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে রপ্তানির জন্য মজুত করা তেলের ওপর চাপ বাড়ছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আশঙ্কা, পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত কয়েক দিনের মধ্যেই সংকটে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে ইয়ানবুর মজুত প্রায় পাঁচ থেকে সাত দিনের মতো রপ্তানি চাহিদা মেটাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিকল্প হিসেবে মিসরের কিছু বন্দর ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা ও মজুত নেই বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। ফলে পাইপলাইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সৌদি তেল রপ্তানির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। 

পাইপলাইন বন্ধের খবর এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠে গেছে; একপর্যায়ে তা প্রায় ১০৮ ডলার স্পর্শ করে। বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের এই গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রপ্তানি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সৌদি পাইপলাইন বন্ধের ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। হরমুজ এড়িয়ে পূর্বাঞ্চলের তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় পাইপলাইনটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-বলয় হিসেবে কাজ করছিল। সেটিই এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সৌদি আরব কত দ্রুত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি সচল করতে পারে। কারণ, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইন চালু করা সম্ভব হলে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকট এড়ানো সম্ভব হতে পারে। বিপরীতে মেরামত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি রপ্তানি সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক তেলবাজারে তার প্রভাব ক্রমেই বাড়তে পারে।

ChannelNRB Footer