News Ticker
221.png

সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৩

শেয়ার

শেয়ার

সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ফের বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন ও জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্রের দাবি, বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও গোলাবারুদের গুদামসহ একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে এসব স্থাপনায় ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হামলার সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইতসহ আরও কয়েকটি এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করে। এসব অঞ্চল অতীতেও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলায় হতাহত বা সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সৌদি সরকারের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকা সৌদি-হুতি সংঘাত আবারও বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে হুতিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। এই জলপথটি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাইপলাইনটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূলে তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ হামলার কারণে পাইপলাইনের বড় একটি অংশ কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে বলে মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। পাইপলাইনটির দৈনিক পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমপরিমাণ।

সৌদি তেল অবকাঠামোতে হামলা, হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা এবং বাব আল-মান্দাব এলাকায় হুতিদের অগ্রগতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও তেল পরিবহন অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হতে পারে। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য ও মূল্যস্ফীতির ওপরও পড়তে পারে।

পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য শনাক্তকরণে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer