গ্রিসের দক্ষিণ উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো প্রায় ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে গ্রিসের কোস্টগার্ড। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণে গাভদোস দ্বীপের কাছে। কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, রোববার নৌকাটি পানিতে ডুবে বা আংশিকভাবে তলিয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে মোট ৭৭ জন ছিলেন।
নৌকাডুবির পর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা দুটি নৌযান ৫১ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। বাকি প্রায় ২৫ জনের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চলছে।
উদ্ধার অভিযানে গ্রিক কোস্টগার্ডের পাশাপাশি ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স-এর সম্পদও ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকায় একাধিক জাহাজ, নৌকা, একটি হেলিকপ্টার ও আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের সময় ওই এলাকায় শক্তিশালী বাতাস বইছিল। এর ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে পরিচালিত অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে বলে গ্রিক রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং নিখোঁজদের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে উদ্ধার অভিযান বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
গাভদোস ও ক্রিটের আশপাশের সমুদ্রপথটি উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিটের দিকে যাওয়া রুটে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের চলাচল বেড়েছে। গাভদোস দ্বীপটি লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় বহু অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী দালালচক্রের মাধ্যমে অনিরাপদ নৌযানে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, নৌযানের দুর্বল কাঠামো এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এসব যাত্রা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
গ্রিসে প্রবেশের জন্য সমুদ্রপথ ব্যবহারের কারণে দেশটির ক্রিট ও গাভদোস অঞ্চল এখন ইউরোপীয় অভিবাসন সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। লিবিয়া থেকে আসা নৌযানগুলো দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসের দ্বীপগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
সাম্প্রতিক নৌকাডুবির ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগরে নিরাপদ অভিবাসনপথ নিশ্চিত করা এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:







