সৌদি আরব ১১ কোটি টন বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আবিষ্কার করেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং প্রায় ১১ কোটি টন এমন কাঁচা খনিজ আকরিকের আনুমানিক সম্পদ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই আকরিক থেকে বাস্তবে কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব, আকরিকের গুণমান, উত্তোলন প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিকভাবে খননযোগ্যতার ওপর।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। দেশটির Vision 2030 পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো খনিজ, শিল্প, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো।
নতুন খনিজ সম্পদের সন্ধান সেই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ছাড়া রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক ইলেকট্রনিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ফলে একই এলাকায় ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি রেয়ার আর্থের উপস্থিতি সৌদি আরবের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়াতে পারে।
সৌদি আরব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে আগ্রহ বাড়িয়েছে। দেশটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি চক্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেয়। তবে বিষয়টি নিয়ে পারমাণবিক বিস্তার রোধ ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক পাওয়া এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
প্রথমে আকরিক থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করতে হয়। এরপর সেটিকে প্রক্রিয়াজাত করে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির উপযোগী করতে হয়। ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণের মাত্রা এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি এবং অস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন খনিজ সম্পদের সন্ধানকে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
সৌদি আরবের নতুন ইউরেনিয়াম সম্পদের খবর এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সম্প্রতি জানিয়েছেন, সৌদি আরব IAEA-কে আরও বিস্তৃত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দেশটি এখনও IAEA-এর Additional Protocol গ্রহণে সম্মত হয়নি।
ফলে সৌদি আরবের নিজস্ব ইউরেনিয়াম সম্পদ, ভবিষ্যৎ খনন পরিকল্পনা এবং পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তেলসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব এখন খনিজ সম্পদকে অর্থনীতির নতুন ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি স্বর্ণ, তামা, ফসফেট, বক্সাইটসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান বাড়িয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় জাবাল সায়িদ এলাকায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ কাঁচা খনিজ সম্পদের সন্ধান দেশটির খনিজ খাতের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে এই সম্পদের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের জন্য মূল প্রশ্ন হবে—আকরিকে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কত, কতটা অংশ অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য এবং উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যয় কত।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







