ইরানের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটির সব ধরনের পণ্য ও পণ্যসামগ্রী ইয়েমেনে প্রবেশ ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির ন্যাশনাল কমিটি ফর রেগুলেটিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং ইমপোর্টস এ সিদ্ধান্ত নেয়। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরানে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও পণ্যসামগ্রীর আমদানি, প্রবেশ এবং ইয়েমেনের বাজারে প্রচলন বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি পক্ষ বলছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই ইরানি পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথি আন্দোলনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।
সিদ্ধান্তটিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের তালিকা না দিয়ে ইরানি পণ্য ও পণ্যসামগ্রীর সব ধরনের প্রবেশ ও প্রচলন নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি শুধু নির্দিষ্ট কোনো পণ্য বা খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়।
তবে নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সীমান্ত ও বন্দরগুলোতে কী ধরনের যাচাই করা হবে এবং আগেই ইয়েমেনে থাকা ইরানি পণ্যের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইয়েমেনের আমদানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান থেকে আসা পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে হতে পারে।
তবে ইয়েমেনের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, অবকাঠামোগত সংকট এবং মানবিক বিপর্যয়ের কারণে বড় চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে নতুন কোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নির্ভর করবে ইরানি পণ্যের ইয়েমেনের বাজারে প্রকৃত অংশ কতটা এবং বিকল্প উৎস থেকে একই পণ্য কত দ্রুত সরবরাহ করা যায় তার ওপর।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের অগ্রগতি বেড়েছে। তারা মোখা বন্দরসহ কৌশলগত কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন শুধু দেশটির রাজনৈতিক সংকট নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ও যুক্ত হয়ে গেছে।
ইরানের সঙ্গে ইয়েমেনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই উত্তেজনা তীব্র।
সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের সৌদি আরববিরোধী হামলা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের সামরিক অগ্রগতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন অবকাঠামোও হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এতে আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ, তেল সরবরাহ এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







