News Ticker
221.png

প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০৮

শেয়ার

শেয়ার

প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র যে, তাদের মহাকাশ বাহিনীর কাছে পৃথিবীর কক্ষপথে মোতায়েন করা ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের উপযোগী অস্ত্র রয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স-এ এ তথ্য জানান।

মেইঙ্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন এমন ‘অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে মোতায়েন করা হয়েছে, কতগুলো রয়েছে এবং কখন সেগুলো মোতায়েন করা হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের একজন মুখপাত্র পরে জানান, এসব সক্ষমতা শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়; প্রয়োজন হলে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ধরনের অভিযানেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্পেস ফোর্সের ভাষায়, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বলতে মহাকাশে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে বিঘ্নিত, দুর্বল বা প্রয়োজনে ধ্বংস করার মতো কার্যক্রম বোঝায়। এর অর্থ, ভবিষ্যতে কোনো শত্রু দেশের স্যাটেলাইট মার্কিন সেনা বা মার্কিন মহাকাশ অবকাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে উঠলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। 

তবে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেটি এখনো গোপন রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মতো নন-কাইনেটিক ব্যবস্থা যেমন থাকতে পারে, তেমনি কোনো স্যাটেলাইটকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার সক্ষমতাও থাকতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।

মার্কিন এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন মহাকাশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, চীন ও রাশিয়া মহাকাশে সামরিক ও ‘কাউন্টার-স্পেস’ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। স্যাটেলাইটকে জ্যাম করা, নজরদারি করা কিংবা কক্ষপথে থাকা অন্য মহাকাশযানের কার্যক্রম ব্যাহত করার প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশই কাজ করছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

মেইঙ্কের বক্তব্যেও প্রতিরোধ বা deterrence-এর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যের অর্থ হলো—যুক্তরাষ্ট্র চাইছে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ যেন জানে, মার্কিন স্যাটেলাইট বা বাহিনীর ওপর মহাকাশভিত্তিক আক্রমণ হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশ প্রকাশ্যে কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করলে অন্য দেশগুলোও নিজেদের সামরিক মহাকাশ সক্ষমতা প্রকাশ বা আরও বাড়ানোর যুক্তি পেতে পারে।

বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এই ঘোষণা মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র করে তুলতে পারে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের Outer Space Treaty কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু প্রচলিত বা conventional অস্ত্রের সব ধরনের কক্ষপথভিত্তিক মোতায়েনকে চুক্তিটি সরাসরি নিষিদ্ধ করে না।

আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক যোগাযোগ, GPS বা ন্যাভিগেশন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণ—বিভিন্ন কাজে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।

ফলে কোনো দেশের স্যাটেলাইট ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারলে সরাসরি কোনো স্থলঘাঁটিতে হামলা না চালিয়েও সেই দেশের সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলা সম্ভব। এ কারণেই মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বড় সামরিক শক্তিগুলো। 

কক্ষপথে কোনো স্যাটেলাইটকে ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো কাইনেটিক অস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ বা space debris তৈরি হতে পারে। এসব ধ্বংসাবশেষ অত্যন্ত বেশি গতিতে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এবং অন্য স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ফলে একটি সামরিক সংঘাতের প্রভাব শুধু দুই দেশের সামরিক স্যাটেলাইটেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; বাণিজ্যিক যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন ও অন্যান্য বেসামরিক মহাকাশ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। 

ChannelNRB Footer