যুক্তরাজ্যে স্ত্রীকে অজান্তে মাদক প্রয়োগ করে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ৬০টি অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২১টি ধর্ষণের ঘটনা, যৌন নিপীড়ন, স্ত্রীকে অচেতন বা অসহায় করে তুলতে মাদকজাতীয় পদার্থ প্রয়োগ এবং তার অনুমতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা।
ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্ট এলাকায়। অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হয়নি ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০০৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে নিজের স্ত্রীর ওপর এসব অপরাধ চালিয়েছেন।
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ম্যানচেস্টারের মিনশুল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে শুনানির সময় তিনি তার বিরুদ্ধে থাকা আরও ৪৫টি অভিযোগের দায় স্বীকার করেন। এর আগে জুনে তিনি ১৫টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। সব মিলিয়ে তার স্বীকার করা অপরাধের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০টি।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন এবং যৌন কর্মকাণ্ড সংঘটনের সুযোগ করে দিতে তাকে অচেতন বা প্রতিরোধে অক্ষম করার উদ্দেশ্যে কোনো পদার্থ প্রয়োগ করা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এমন পদার্থ প্রয়োগ করতেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তাকে অচেতন, অসহায় বা প্রতিরোধে অক্ষম করে তোলা। এরপর তার সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ড চালানো হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে এবং অনেকগুলো ঘটনা তাদের পারিবারিক বাড়িতেই সংঘটিত হয়েছে।
এ ছাড়া স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে সেগুলো অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার অভিযোগেও ওই ব্যক্তি দোষ স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন একের পর এক অভিযোগে নিজের দায় স্বীকার করছিলেন, তখন তার সাবেক স্ত্রী আদালতের সামনের সারিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে ছিলেন।
আদালতের পরিবেশ ছিল আবেগঘন। শুনানির সময় ভুক্তভোগী নারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে পাশে থেকে সমর্থন দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তের পর আরও ১২ জন পুরুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বয়স ২৮ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র, যৌন নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নে জড়িত থাকার অভিযোগ। তবে ওই ১২ জনই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রধান আসামির সাজা পরে ঘোষণা করা হবে। মামলার বিচার আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন:







