News Ticker
221.png

ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪৫

আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৩

শেয়ার

শেয়ার

ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পালাওয়ান প্রদেশের কোরন উপকূলে এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিতে এ আগুন লাগে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পালাওয়ান প্রদেশের কোরন উপকূলে ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ নামের ফেরিটিতে আগুন লাগার পর ব্যাপক প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (PCG) জানিয়েছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া ফেরি থেকে নতুন করে ৪১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। বর্তমানে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। 

‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ ফেরিটি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে পর্যটননগরী কোরনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে কোরনের কাছাকাছি সমুদ্রে ফেরিটিতে আগুন লাগে।

ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। আগুন লাগার আগে ফেরিটির ভেতরে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল বলে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বরাত দিয়ে দেশটির মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি জানিয়েছে। এরপর আগুন দ্রুত পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিটির কার্গো হোল্ডের দিক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ওই অংশে বিভিন্ন যানবাহন ও পণ্য ছিল। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

আগুন ও প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকারীরা শুরুতে ফেরিটির ভেতরে ঢুকতে পারেননি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর জাহাজের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আগুনে নিহতদের অনেকের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ডিএনএসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছেন।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র নিহতদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭৬ জন নিহতের মধ্যে মাত্র পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছিল। 

দুর্ঘটনার পর ফেরিটির ক্যাপ্টেন রোয়েল সারমিয়েন্তো নিখোঁজ ছিলেন। তবে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি নিজেই ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান Atienza Interisland Ferries-এর পালাওয়ান কার্যালয়ে হাজির হন।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে আগুন লাগার সময় কী ঘটেছিল এবং দুর্ঘটনার পর তিনি কোথায় ছিলেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে।

ফেরিটিতে আগুন লাগার কারণ এবং দুর্ঘটনার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ফেরিটির ব্রিজ ও যাত্রী ও ক্রুদের থাকার অংশগুলো পুরোপুরি তল্লাশি করা হয়েছে। কার্গো হোল্ডের প্রায় ৬৫ শতাংশ অংশেও প্রবেশ করতে পেরেছেন উদ্ধারকারীরা।

আরও কোনো মরদেহ, আলামত বা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বাদ পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ফেরিটিতে দ্বিতীয় দফায় তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

ফিলিপাইনের এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর দেশটির অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির হাজারো দ্বীপের মধ্যে যাতায়াতে ফেরি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ায় এ ঘটনায় দেশটির নৌযান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer