News Ticker
221.png

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বহু বিমান ধ্বংস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৩

শেয়ার

শেয়ার

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বহু বিমান ধ্বংস
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সামরিক বিমান ও ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদে এবং প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতিতে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলায় জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, একটি A-10 Thunderbolt II যুদ্ধবিমানের একটি ডানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই হামলায় প্রায় আটটি F-15 যুদ্ধবিমান হালকা ক্ষতির শিকার হয়। এগুলোর কয়েকটি পরে আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। 

এর আগে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে দুই ডজনের বেশি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ৩০টি পর্যন্ত MQ-9 Reaper ড্রোন হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হিসাব রয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার।

তবে এসব তথ্যের অর্থ এই নয় যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস’ হয়েছে। প্রকাশিত মার্কিন ও আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ড্রোন ধ্বংস বা হারিয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ ও সামরিক লজিস্টিক ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। কিছু সরবরাহ কার্যক্রম তুলনামূলক দূরের ঘাঁটিতে সরিয়ে নিতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে বিপুল পরিমাণ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন মার্কিন প্রতিবেদনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।

জর্ডানের ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে প্রায় ৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হিসাবে, এসব স্থাপনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি জরুরি সাড়া ও মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার পেছনেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। 

ইরানের হামলায় স্থাপনা ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

যুদ্ধের ব্যয়, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি এবং দ্রুত গোলাবারুদ পুনরায় মজুত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও আলোচনা বাড়ছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer