News Ticker
221.png

১০০ দিনেও ফেরেনি ইন্টারনেট, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে কী ঘটছে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৫

শেয়ার

শেয়ার

১০০ দিনেও ফেরেনি ইন্টারনেট, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে কী ঘটছে?
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে (পাকিস্তান প্রশাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার ১০০ দিন পার হয়েছে। জুনের শুরুতে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অঞ্চলটির মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ব্যাপকভাবে বন্ধ বা সীমিত রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে নতুন সরকার গঠিত হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি যোগাযোগব্যবস্থা। 

ইন্টারনেট বন্ধের কারণে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নয়, শিক্ষা, ব্যবসা, ব্যাংকিং, অনলাইন সেবা এবং সংবাদ সংগ্রহ—দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেই ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

চলতি বছরের জুনে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলো নির্বাচনী সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চলে অচলাবস্থা তৈরি হয়। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যোগাযোগব্যবস্থায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। 

অস্থিরতার কারণে অঞ্চলটির আইনসভা নির্বাচনও স্বাভাবিকভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ধাপের ভোট হয় ১০ আগস্ট।

কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি চালু হয়নি। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরও মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ডের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে।

১০০ দিনের এই যোগাযোগ সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন ব্যাংকিং, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং দূরবর্তী কর্মসংস্থানের মতো সেবাগুলো ব্যাহত হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্যও তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত সংবাদ প্রকাশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটনির্ভর শিক্ষা ও যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও অনলাইন লেনদেন ও বাইরের বাজারের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ইন্টারনেট বিধিনিষেধের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF) আগস্টে কাশ্মীরে সংবাদপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে। 

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও ইন্টারনেট পুরোপুরি চালু না হওয়ায় সংকটের ছাপ এখনো স্পষ্ট।

আগের বিক্ষোভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও সরকারের জবাবদিহি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। আগস্টের নির্বাচনের সময়ও বিভিন্ন গোষ্ঠী ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল এবং কিছু এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল। 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে ইন্টারনেট সেবা?

১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০০ দিন পার হলেও মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো স্পষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। ফলে কয়েক মাস ধরে চলা এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ChannelNRB Footer