News Ticker
221.png

জাপানে ১০০ বছর বয়সী নাগরিক ১০৭৬৭৭ জন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৫

শেয়ার

শেয়ার

জাপানে ১০০ বছর বয়সী নাগরিক ১০৭৬৭৭ জন
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘায়ুর দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখের সীমা অতিক্রম করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (MHLW) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন

এ নিয়ে জাপানে শতায়ু মানুষের সংখ্যা টানা ৫৬ বছর ধরে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১৯৬৩ সালে প্রথমবার এ ধরনের পরিসংখ্যান সংগ্রহ শুরু হওয়ার সময় দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন। ১৯৮১ সালে তা ১ হাজার ছাড়ায়, ১৯৯৮ সালে ১০ হাজার এবং ২০১২ সালে ৫০ হাজারের মাইলফলক অতিক্রম করে। ২০২৬ সালে এসে প্রথমবারের মতো সংখ্যাটি ১ লাখ ছাড়াল।

জাপানের শতায়ু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীদের আধিপত্য অত্যন্ত স্পষ্ট। মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনের মধ্যে ৯৪ হাজার ২৯৮ জন নারী, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯।

অর্থাৎ জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে প্রায় ৯ জনই নারী। দেশটির দীর্ঘায়ু-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে বহু বছর ধরেই নারীদের এই প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে।

জনসংখ্যার অনুপাতে জাপানে প্রতি ১ লাখ মানুষের বিপরীতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ৮৭ দশমিক ৫১ জন। তবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। 

প্রিফেকচারগুলোর মধ্যে শিমানে শীর্ষে রয়েছে। সেখানে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১৮৬ দশমিক ৬৫ জন। এরপর রয়েছে কোচি, যেখানে এই হার ১৬৯ দশমিক ৫২, এবং তত্তোরি, যেখানে ১৫২ দশমিক ৪৮। শিমানে টানা ১৪ বছর ধরে এই সূচকে দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। 

শুধু বর্তমানে শতায়ু মানুষের সংখ্যাই বাড়ছে না, চলতি অর্থবছরেও বিপুলসংখ্যক জাপানি নাগরিক ১০০ বছর বয়সে পৌঁছানোর কথা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ২৯৪ জন ১০০ বছরে পৌঁছাবেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৯৮৪ জন। 

জাপানে ১০০ বছরে পৌঁছানো নাগরিকদের সম্মান জানাতে সরকার প্রতি বছর বিশেষভাবে অভিনন্দনপত্র ও স্মারক উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে।

জাপানের মানুষের দীর্ঘায়ু দেশটির জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, জাপানে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৮৭ দশমিক ৩৩ বছর, আর পুরুষদের ৮১ দশমিক ৩৫ বছর

বিশেষজ্ঞরা জাপানের দীর্ঘায়ুর পেছনে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনের মতো বিভিন্ন কারণকে গুরুত্ব দেন। তবে দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যের পাশাপাশি দেশটি দ্রুত বয়স্ক হয়ে যাওয়া জনসংখ্যার কারণে বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়ছে।

জাপানের জন্য ১ লাখের বেশি শতায়ু মানুষের সংখ্যা নিঃসন্দেহে দীর্ঘায়ুর একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেশটির বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা সংকটের চিত্রও তুলে ধরছে।

জন্মহার কমে যাওয়া, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। প্রবীণ জনগোষ্ঠী যত বাড়ছে, তাদের চিকিৎসা, পেনশন ও পরিচর্যার ব্যয়ও তত বাড়ছে। 

বর্তমানে জাপানের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত নারী হিসেবে কিয়োটোর ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো-র নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ১৯১১ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। জাপানের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত পুরুষ হলেন কুমামোতো শহরের ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো

জাপানের শতায়ু মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্রটি দেশটির জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ব্যাপকতা বোঝায়। ১৯৬৩ সালে যেখানে মাত্র ১৫৩ জন ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী ছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে। 

অর্থাৎ মাত্র ছয় দশকের কিছু বেশি সময়ে জাপানে শতায়ু মানুষের সংখ্যা কয়েকশ থেকে বেড়ে লাখের ঘরে পৌঁছেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুত এবং দীর্ঘস্থায়ী শতায়ু জনসংখ্যা বৃদ্ধির উদাহরণ।

ChannelNRB Footer