News Ticker
221.png

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন সংস্কার করছে উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৩

শেয়ার

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন সংস্কার করছে উত্তর কোরিয়া
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়া তার প্রথম দিককার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী সাবমেরিনের একটি সংস্কার ও সম্ভাব্য আধুনিকায়ন করছে বলে নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশটির সাবমেরিনভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও কার্যকর করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে এই সংস্কারকাজ।

সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার সিনপো সাউথ শিপইয়ার্ডে দেশটির প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিনটি ড্রাইডকে রাখা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সাবমেরিনটিতে রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি কিছু ধরনের আপগ্রেড বা সংস্কার করা হতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাবমেরিনটি উত্তর কোরিয়ার প্রাথমিক সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (SLBM) কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৬ সালে এই শ্রেণির সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে পিয়ংইয়ং সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তৈরির প্রচেষ্টা স্পষ্ট করে। এর ফলে স্থলভিত্তিক উৎক্ষেপণস্থলের তুলনায় আরও গোপন ও অনিশ্চিত অবস্থান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাবমেরিনটিকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ সীমিত। উত্তর কোরিয়ার পুরোনো SLBM পরীক্ষাগুলোর পরিসর এবং সাবমেরিনটির প্রকৃত অপারেশনাল সক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার আরও নতুন সাবমেরিন প্রকল্পে অবশ্য দীর্ঘপাল্লার ও পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সালে দেশটি ‘হিরো কিম কান ওক’ নামে একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন প্রকাশ করে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান CSIS-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওই সাবমেরিনটিও তখন পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। 

উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশটির নেতা কিম জং উন একটি নতুন পারমাণবিকচালিত কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন নির্মাণের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। গবেষকরা অবশ্য সাবমেরিনটির প্রকৃত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্যের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। 

এদিকে ২০২৬ সালেও উত্তর কোরিয়া তার সামুদ্রিক পারমাণবিক সক্ষমতা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির নতুন ৫ হাজার টন শ্রেণির একটি ডেস্ট্রয়ারকে পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা একটি দেশের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। কারণ সাবমেরিন সমুদ্রে তুলনামূলকভাবে গোপন অবস্থান বজায় রাখতে পারে এবং স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার তুলনায় এর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

তবে উত্তর কোরিয়ার পুরোনো সাবমেরিনটির বর্তমান অবস্থা, সংস্কারের প্রকৃতি এবং বাস্তবে কত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে—এসব বিষয়ে আরও স্যাটেলাইট চিত্র, পরীক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য প্রয়োজন। তাই এটিকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার কার্যকর অস্ত্র হিসেবে চূড়ান্তভাবে শ্রেণিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক এই উন্নয়ন অবশ্য উত্তর কোরিয়ার সামগ্রিক নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চলতি সেপ্টেম্বরেও দেশটি একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করেছে।

ChannelNRB Footer