News Ticker
221.png

আলমারিতে লুকিয়ে মাদক কারবারি, ধরিয়ে দিল ওয়াই-ফাই

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৬

শেয়ার

শেয়ার

আলমারিতে লুকিয়ে মাদক কারবারি, ধরিয়ে দিল ওয়াই-ফাই
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে ব্যবহার করেছিলেন ভিপিএন। নিজের অবস্থান গোপন রাখতে নিয়েছিলেন নানা সতর্কতাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে ডিভাইস সংযুক্ত করাই কাল হয়ে দাঁড়ায় যুক্তরাজ্যের এক মাদক কারবারির জন্য। পুলিশ সেই সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারের পর বিস্মিত ওই ব্যক্তি পুলিশকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?’ 

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস ‘ববি’ নামে একটি মাদক সরবরাহ চক্র পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাকে ধরতে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছিল মাদক সরবরাহে জড়িত সন্দেহে আটক কয়েকজন কিশোরের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার পর।

মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, লুইস নিজের অবস্থান গোপন রাখতে তার ডিভাইসগুলো ভিপিএনের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা পুলিশের জন্য সহজ ছিল না।

তবে তিনি যে ঠিকানায় আত্মগোপন করেছিলেন, সেখানে তার একটি ডিভাইস অসাবধানতাবশত একটি পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যায়। তদন্তকারীরা সেই সংযোগ থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। এরপর ২০২৬ সালের ৭ জুলাই ওয়েম্বলির ওই ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় লুইস নিজেকে একটি আলমারির মধ্যে লুকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে খুঁজে বের করেন।

গ্রেপ্তারের সময় পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা আমাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন?’ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজও রয়েছে।

লুইসের মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, তার যোগাযোগ তালিকায় প্রায় ২৫০ জন মাদক ব্যবহারকারীর তথ্য ছিল। পুলিশ জানায়, তিনি প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি ফোনকল পেতেন।

তদন্তকারীদের মতে, এসব যোগাযোগ ‘ববি’ নামের মাদক সরবরাহ লাইনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, লুইস উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের কাজে তরুণদের ব্যবহার করতেন। 

ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কোকেন ও হেরোইনসহ ‘এ’ শ্রেণির মাদক উদ্ধার করে। পুলিশের হিসাবে এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড

এ ছাড়া উদ্ধার করা হয় প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ এবং ছয়টি মোবাইল ফোন। এর মধ্যে একটি ফোন ‘ববি’ মাদক সরবরাহ লাইন পরিচালনায় ব্যবহৃত হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযানে একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ মিলিমিটারের ১৩ রাউন্ড গুলি, একটি মাচেতে এবং একটি ফোল্ডিং ছুরিও উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লুইসের বিরুদ্ধে মাদক সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘এ’ শ্রেণির মাদক রাখাসহ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়।

পরে হ্যারো ক্রাউন কোর্টে তাকে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ-সংক্রান্ত অপরাধে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, লুইস উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক পরিবহনের কাজে বহু তরুণকে নিয়োগ করেছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ওই তরুণরা সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিল। 

ঘটনাটি দেখিয়েছে, নিজের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রাখতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও একটি অনিচ্ছাকৃত নেটওয়ার্ক সংযোগ তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে।

লুইস ভিপিএন ব্যবহার করে অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে ডিভাইস সংযুক্ত হওয়ার ঘটনাই শেষ পর্যন্ত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়।

অর্থাৎ, পুলিশের হাত থেকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পরও একটি অসাবধানতাবশত ওয়াই-ফাই সংযোগই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। 

ChannelNRB Footer