গাজা সিটিতে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। আটকা পড়াদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে।
স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোররাতে পশ্চিম গাজা সিটিতে ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার সময় ভবনটির ভেতরে বাস্তুচ্যুত কয়েকটি পরিবার অবস্থান করছিল। রাতের বেলায় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ভবনটি ধসে পড়ায় হতাহতের আশঙ্কা বেড়েছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে ১১টি মরদেহ উদ্ধারের এবং ১২ জনকে জীবিত উদ্ধারের কথা বলা হয়।
তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। রয়টার্স স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে; আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। একই সঙ্গে প্রায় ১০০ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভবনটি আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু নিরাপদ বিকল্প আশ্রয়ের সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো সেখানে অবস্থান করছিল। ভবনটি ধসে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধারকাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে। ফলে উদ্ধারকারীদের অনেক ক্ষেত্রে হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করতে হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারী সরঞ্জামের ঘাটতি উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলছে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুদের আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। জীবিতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে থাকা সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপদ আবাসনের সংকটে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনেও আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ধরনের ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও সতর্কতার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







