উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ইউনিটের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি ইউনিটের সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঘটনার পর বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের Charge d’Affaires-কে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ বলে বর্ণনা করেছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষটি উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে ঘটনাটি ১৫ সেপ্টেম্বরের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দুই জাহাজের সুনির্দিষ্ট নাম, সংঘর্ষের সঠিক স্থানাঙ্ক এবং দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারিগরি বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজটি সমুদ্রে একটি কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল। এ সময় পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের ম্যানুভারিংয়ের ফলে দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে বলে ভারতের অভিযোগ।
তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য দুই পক্ষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও নৌ-তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ঘটনাটি সম্পর্কে প্রকাশ্য বিবরণের বড় অংশ ভারতীয় পক্ষের বক্তব্যনির্ভর।
ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের Charge d’Affaires-কে তলব করে। বৈঠকে পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের আচরণের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়।
ভারত বলেছে, সমুদ্রে পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের আচরণ ছিল অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার এবং এর ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি ইউনিটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে।
একই সঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিকেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে ১৯৯১ সালে স্বাক্ষরিত সামরিক মহড়া, ম্যানুভার ও সেনা চলাচল সম্পর্কে আগাম নোটিশ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তির Article 10-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
নয়াদিল্লির দাবি, পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের আচরণ ওই চুক্তির বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ভারত পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সামরিক ইউনিটগুলোর নিরাপদ ও সতর্ক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ হলেও এতে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। হতাহতেরও কোনো খবর ভারতীয় সরকারি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের বিস্তারিত সরকারি বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, ঘটনার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। স্থলসীমা ও আকাশসীমার পাশাপাশি আরব সাগরেও দুই দেশের নৌবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। ফলে সামরিক জাহাজের মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা দ্রুত কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনায়ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঘটনাটির পরবর্তী প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে পাকিস্তানের সরকারি প্রতিক্রিয়া এবং দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর।
ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর মধ্যে সমুদ্রে ঘনিষ্ঠ অবস্থান বা ম্যানুভার নিয়ে অতীতেও বিরোধ হয়েছে। ২০১১ সালে সোমালিয়া উপকূলের কাছে জলদস্যুবিরোধী অভিযানের সময় ভারতীয় INS Godavari এবং পাকিস্তানি PNS Babur-কে ঘিরে দুই পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল।
সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সংঘর্ষের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমুদ্রপথে নিরাপদ দূরত্ব ও ম্যানুভারিং নিয়ে বিরোধের ঐতিহাসিক নজির হিসেবে ঘটনাটি উল্লেখ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







