সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও একটি বিমানঘাঁটিতে ফের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ানবুতে তেল স্থাপনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত এলাকার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাকে এবং খামিস মুশাইতে একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও হামলার সব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কয়েক দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর হুতিরা সৌদির কয়েকটি শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। ওই হামলায় কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় এবং বহু মানুষ আহত হন।
৯ সেপ্টেম্বরও আবহা, খামিস মুশাইত ও জাজানসহ দক্ষিণ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানানো হয়।
এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর হুতিরা খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার দাবি করে।
সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। এখানকার তেল অবকাঠামো সৌদি আরবের রপ্তানি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ইয়ানবুর মতো স্থাপনায় হামলার দাবি আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং সংঘাতের বিস্তৃতি আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
হুতিদের হামলার পাশাপাশি সৌদি আরবও ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। হুতিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব হামলায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ১৬ সেপ্টেম্বর হুতিরা আরও দাবি করেছে, তারা একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মক্কার কাছে একটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং হামলাটির জন্য হুতিদের দায়ী করা হয়েছিল। তবে হুতিরা ওই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ হুতিদের হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। ফলে ইয়েমেন-সৌদি সীমান্ত ছাড়িয়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







