ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার গাজা সিটিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১০০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-সিনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধসে পড়া ভবনটি আগে থেকেই যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেখানে বাস্তুচ্যুত কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল।
ভবন ধসের পর ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি মরদেহ বের করার চেষ্টা চলছে।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, ভবনটি আগে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ধসের সময় সেখানে কয়েকটি বাস্তুচ্যুত পরিবার অবস্থান করছিল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ হতে পারে বলে তিনি জানান।
উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতির সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) গাজার প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিচ বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মিশরের ত্রাণ সংস্থা এবং জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থাও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ হাজার ভবনে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করছেন। নিরাপদ আবাসনের সংকটের কারণে অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
গাজায় দীর্ঘ সংঘাতের ফলে বহু আবাসিক ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি নতুন করে মানবিক সংকট তৈরি করছে।
গাজা সিটির সর্বশেষ ভবন ধসের ঘটনায় উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধান করছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







