ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের নিকোপোল জেলার কাছে এ হামলা হয়।
নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা জানান, একটি রুটে চলাচলকারী বাসটিকে ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলায় পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত সাতজনকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিকোপোল ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থিত। শহরটি ডিনিপ্রো নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপরীতে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২২ সালে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি একটি যাত্রীবাহী বাসকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এটিকে রুশ ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বাসে হামলার পাশাপাশি বুধবার ইউক্রেনের মাইকোলাইভ অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি কিয়েভ থেকে মাইকোলাইভ যাচ্ছিল। হামলায় রেল অবকাঠামো ও একটি ডিজেল লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ট্রেনের যাত্রী ও কর্মীদের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রেনটিতে থাকা ১৬৮ জন যাত্রী ও কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অভিযোগ করেছেন, দেশটির রেল যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামোতে হামলা ধারাবাহিকভাবে চালানো হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালেই দেশটির প্রায় ১,৭০০টি রেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি যাত্রীবাহী বগি ও ৩০৪টি লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সিবিহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুশ হামলায় ইউক্রেনের ৫০০-এর বেশি লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছে বিকল্প লোকোমোটিভ সরবরাহ ও অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বাসে হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের পরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর ইউক্রেনের বেসামরিক পরিবহন ব্যবস্থা বারবার হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘপথে যাতায়াতের জন্য দেশটির বাস ও রেল যোগাযোগের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে পরিবহন অবকাঠামোতে হামলা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও চলাচল—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







