ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ (MV June Aster)-এ মোট ১২৮ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ গত ৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে পালাওয়ান প্রদেশের কোরনের উদ্দেশে যাত্রা করে। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় পালাওয়ানের কোরন উপকূলের জলসীমায় জাহাজটিতে আগুন লাগে।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকারীরা জাহাজ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেন।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া এক ক্রু সদস্য গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭৭ জনে পৌঁছায়। এর আগে ৭৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী:
-
মোট জাহাজে ছিলেন: ১২৮ জন
-
নিহত: ৭৭ জন
-
জীবিত উদ্ধার: ৪৩ জন
-
নিখোঁজ: ৮ জন
আগুন কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা এখনো চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। তবে কয়েকজন জীবিত যাত্রী জানিয়েছেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগে তারা বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনেছিলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের কারণে উদ্ধারকারীদের পোড়া অংশে প্রবেশ করতেও সমস্যা হয়েছিল।
আগুনের সূত্রপাত, জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার সময় জরুরি ব্যবস্থা যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ বা দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
দুর্ঘটনার পর জাহাজের বিভিন্ন অংশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত করতে ফরেনসিক দল কাজ করছে। নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে।
নিখোঁজ আটজনের সন্ধানে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং জাহাজটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।
ফিলিপাইনে দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতে ফেরি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ায় এই দুর্ঘটনা দেশটির সামুদ্রিক যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো নির্দিষ্ট ত্রুটিকে এখনো সরকারি তদন্তে চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন:







