News Ticker
221.png

মহাকাশে একসঙ্গে ৩টি স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তুতি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০১

শেয়ার

শেয়ার

মহাকাশে একসঙ্গে ৩টি স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তুতি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইরান। দেশটি শহীদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনের তিনটি স্যাটেলাইট একই সঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি বুধবার এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ইরানি বছরের শেষ নাগাদ—যা ২১ মার্চ ২০২৭-এ শেষ হবে—তিনটি স্যাটেলাইটকে একসঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। 

মন্ত্রী সাত্তার হাশেমি বলেন, মহাকাশ খাতের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ কর্মসূচিতে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

ইরানের পরিকল্পিত শহীদ সোলেইমানি কনস্টেলেশনে মোট ২৪টি স্যাটেলাইট থাকবে। এর মধ্যে ১৮টি মূল স্যাটেলাইট এবং ছয়টি রিজার্ভ স্যাটেলাইট হিসেবে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন হাশেমি।

এই কনস্টেলেশনের তিনটি স্যাটেলাইট একই সঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি স্যাটেলাইটগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে উৎক্ষেপণ করা হবে। 

ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পরিকল্পিত তিনটি স্যাটেলাইট হলো পায়া (Paya), জাফর (Zafar) ও কাউসার (Kowsar)। এগুলোর উন্নয়ন ও নির্মাণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ রয়েছে।

ইরানের মহাকাশ কর্মসূচিতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। হাশেমি তিনটি স্যাটেলাইটের একসঙ্গে উৎক্ষেপণকে রাশিয়ার সহযোগিতায় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রুশ উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে ইরানের তিনটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল। ওই মিশনে পায়া, জাফর ও কাউসারসহ ইরানের তিনটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয় বলে আন্তর্জাতিক মহাকাশবিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান একই সঙ্গে নিজস্ব উৎক্ষেপণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। মন্ত্রী হাশেমি জানিয়েছেন, চাবাহার স্পেস সেন্টারের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের কয়েকটি মহাকাশ-সম্পর্কিত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চাবাহার স্পেস সেন্টার ভবিষ্যতে যোগাযোগ ও রিমোট-সেন্সিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

তিন স্যাটেলাইটের পাশাপাশি ইরান নাহিদ-২ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে। এটি টেলিযোগাযোগ কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী জানিয়েছেন।

ইরানের দাবি, নাহিদ-২-এ প্রথমবারের মতো Ku-band প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। স্যাটেলাইটটির উন্নয়ন কার্যক্রমে একজন নারী নির্বাহী গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

ChannelNRB Footer