News Ticker
221.png

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২০

আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩০

শেয়ার

শেয়ার

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ পর্যায়ে: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

 ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আশা করছি, আমরা যুদ্ধের শেষের দিকে আছি।” তবে যুদ্ধের অবসান হয়েছে বা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হয়ে গেছে—এমন ঘোষণা দেননি তিনি। 

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের পক্ষ থেকে সমঝোতার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত বা আলোচনার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাত শুরু হয়। এর পর ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাতের ফলে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এর আগে যুদ্ধ থামাতে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। জুলাইয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের জন্য করা একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যকর নেই। 

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তাঁর দাবি।

তিনি বলেন, তেহরান একটি চুক্তি করতে চায়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই যোগাযোগের বিষয়ে কী ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে আগস্টেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তখন ইরান জানিয়েছিল, এ ধরনের কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বা পরিকল্পনাধীন নেই। ফলে এবারও দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। 

সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে রেখেছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১২।

হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত পক্ষগুলোর মধ্যে লড়াই বেড়েছে। এতে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ওমানে যোগাযোগ হয়েছে এবং মার্কিন জাহাজে হামলার পরিকল্পনা নেই বলে হুথিরা জানিয়েছে। তবে একই সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সামরিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও, এখন পর্যন্ত এটিকে যুদ্ধ শেষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য একটি কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছে।

আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা কতটা এগোয়, যুদ্ধবিরতির কোনো কাঠামো তৈরি হয় কি না এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয় কি না—এসব বিষয়ই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer