সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালা এলাকায় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এতে থাকা তিন আরোহীই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (FCDO)। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার কিছু পর সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভালেইস (Valais) ক্যান্টনের ল্যুকারবাদ (Leukerbad) এলাকার ফ্লুহাল্প (Fluhalp) অঞ্চলে বিমানটি পাহাড়ের ঢালে আছড়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাকে জানান।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট Cirrus SR22T। ভালেইস ক্যান্টন পুলিশ জানিয়েছে, বিমানটি সুইজারল্যান্ডের লুগানো (Lugano) থেকে যাত্রা শুরু করে সিয়ন বিমানবন্দরে (Sion Airport) একটি বিরতি নেয়।
এরপর বিমানটি নিডভালডেন (Nidwalden) ক্যান্টনের বুওক্স (Buochs) বিমানক্ষেত্রের দিকে যাচ্ছিল। ওই যাত্রাপথেই ল্যুকারবাদের কাছে ফ্লুহাল্প এলাকায় বিমানটি পাহাড়ের উত্তর ঢালে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ভালেইস ক্যান্টনের উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তিনটি হেলিকপ্টার ও উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
তবে উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছে বিমানের তিন আরোহীকেই মৃত অবস্থায় দেখতে পান। দুর্ঘটনার পর নিহতদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর জানিয়েছে, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন ব্রিটিশ নাগরিক। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তৃতীয় নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা ও পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।
কেন বিমানটি পাহাড়ের ঢালে গিয়ে আছড়ে পড়ল, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। সুইস ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (SUST) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে।
এর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল প্রসিকিউটর এবং ভালেইস ক্যান্টন পুলিশও তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি, নেভিগেশন বা পাইলটের কোনো সিদ্ধান্ত দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি।
আরও পড়ুন:







