News Ticker
221.png

প্রতি ৫০ গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত, ফিজিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০১

শেয়ার

শেয়ার

প্রতি ৫০ গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত, ফিজিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

এইচআইভি সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ ফিজি। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে আনুমানিক একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক—অ্যান্টেনাটাল কেয়ারে আসা নারীদের প্রায় ২ শতাংশ এইচআইভি-পজিটিভ, অর্থাৎ প্রতি ৫০ জনে একজন। 

বুধবার ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাটু আন্তোনিও লালাবালাভু আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় এইচআইভি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এখন আর শুধু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার পর্যায়ের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; সরকার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনগোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা UNAIDS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রায় ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন বলে অনুমান করা হয়েছে। একই বছরে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার।

ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যেও সংক্রমণ বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে ২ হাজারের বেশি নতুন এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাঁচ বছর আগে প্রতি ১৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে অনুমান করা হলেও বর্তমানে সেই অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ জনে ৬০।

সংক্রমণের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো গর্ভবতী নারীদের মধ্যে এইচআইভির উপস্থিতি। ফিজির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যান্টেনাটাল কেয়ারে আসা নারীদের মধ্যে সংক্রমণের হার প্রায় ২ শতাংশ। এর অর্থ, প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে আনুমানিক একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। 

গর্ভাবস্থা, প্রসব বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গর্ভাবস্থার শুরুতেই এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে। 

পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ। UNAIDS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিজিতে ৫৯টি শিশু এইচআইভি নিয়ে জন্ম নেয় এবং তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রথম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। 

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত পরীক্ষা, আক্রান্তদের দ্রুত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার আওতায় আনা এবং মা থেকে শিশুর সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জোরদার করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে যৌন সংক্রমণের পাশাপাশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। UNAIDS জানিয়েছে, যেসব নতুন সংক্রমণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন জানা গেছে, তাদের অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের সঙ্গে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত।

বিশেষ করে মাদক গ্রহণের সময় একই সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে ফিজি সরকার সুচ ও সিরিঞ্জ বিনিময় কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।

দেশটির আরেকটি বড় সমস্যা হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকে নিজেদের সংক্রমণের কথা জানেন না। UNAIDS-এর হিসাবে, ফিজিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের বিষয়ে জানেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

সরকার এখন বিনামূল্যে ও গোপনীয় এইচআইভি পরীক্ষা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক ওষুধ PrEP এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিজি সরকার পাঁচ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা উপকমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি নীতিগত ও প্রশাসনিক বাধা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করবে।

একই সঙ্গে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক কুসংস্কার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। UNAIDS জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 

UNAIDS বলছে, ফিজিতে নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধির হার বিশ্বব্যাপী এইচআইভি পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রবণতার বিপরীত। সংস্থাটি ফিজির জরুরি ঘোষণা এবং পরীক্ষা, চিকিৎসা, প্রতিরোধ ও ক্ষতি কমানোর কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। 

ChannelNRB Footer