News Ticker
221.png

প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা জরিমানার শর্তে কারাগারের বদলে নিজ বাসায় থাকার সুযোগ পেলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:২৪

শেয়ার

শেয়ার

প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা জরিমানার শর্তে কারাগারের বদলে নিজ বাসায় থাকার সুযোগ পেলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে কারাগারে থাকা বাকি সাজা বাসায় থেকে ভোগ করার অনুমতি দিয়েছে দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম। তবে এই সুবিধা পেতে তাকে ৫ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৪৪ কোটি টাকা।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের আইনবিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার ফেডারেল টেরিটরিজ পারডনস বোর্ডের ৬৪তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নাজিব রাজাক ২৩ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত তার অবশিষ্ট কারাদণ্ড গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে পারবেন। 

গৃহবন্দিত্বের অনুমতিটি নিঃশর্ত নয়। নাজিবকে RM50 million বা ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি পারডনস বোর্ডের নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও তাকে মেনে চলতে হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব শর্তের কোনো একটি ভঙ্গ করলে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে পুনরায় কারাগারে গিয়ে বাকি সাজা ভোগ করতে হবে।

নাজিব রাজাক ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। SRC International-এর অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০২০ সালে তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ২১ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছিল। মালয়েশিয়ার আপিল আদালত ও ফেডারেল কোর্ট পরবর্তীতে সেই সাজা বহাল রাখে। 

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ার পারডনস বোর্ড তার ১২ বছরের সাজা কমিয়ে ৬ বছর করে এবং জরিমানা কমিয়ে ৫ কোটি রিঙ্গিত নির্ধারণ করে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই সাজার অবশিষ্ট অংশ কারাগারের পরিবর্তে গৃহবন্দি অবস্থায় ভোগের অনুমতি দেওয়া হলো।

তবে গৃহবন্দিত্বের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নাজিবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ 1MDB মামলা জড়িত নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট তাকে 1MDB-সংশ্লিষ্ট মামলায় ২৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ওই মামলায় তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং মোট ১১.৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

নাজিব রাজাক ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল 1Malaysia Development Berhad (1MDB) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তার ভূমিকা ছিল। আন্তর্জাতিক তদন্তে তহবিলটি থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই কেলেঙ্কারি মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন জোটের পরাজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রেক্ষাপট হয়ে ওঠে। 

নাজিব এর আগে দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের রাজকীয় ক্ষমা প্রদানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাকে গৃহবন্দি রাখার একটি অতিরিক্ত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি বিতর্ক হয়। ২০২৫ সালের শুরুতে মালয়েশিয়ার কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের কাছে পাওয়া সরকারি নির্দেশনায় গৃহবন্দিত্বের কথা উল্লেখ ছিল না।

এরপর ২০২৬ সালের এপ্রিলেও নাজিবের গৃহবন্দিত্বের আবেদন নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলেছিল। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার পারডনস বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি শর্তসাপেক্ষে বাসায় থেকে সাজা ভোগের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেলেন। 

ChannelNRB Footer