মেক্সিকোর মোরেলোস অঙ্গরাজ্যের কুয়াউতলা শহরে স্প্যানিশ এক নারী শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ক্লডিয়া টাকোরোন্তে আগুইলেরা, বয়স ২১ বছর। তিনি স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় মেক্সিকোর অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব দ্য স্টেট অব মোরেলোসে পড়াশোনা করছিলেন।
মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ফ্রান্সিসকো হাভিয়ের এন., ‘এল ত্রম্পাস’ নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারীদের সমন্বিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
ক্লডিয়া গত আগস্টে মেক্সিকোতে যান। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি কুয়াউতলার কাসা দে লা কালতুরা এলাকায় একটি ঔষধি গাছবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে তার ওপর হামলা চালায় এবং ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়।
তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে শুরু থেকেই ফেমিসাইডের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছেন। তবে মোরেলোসের গভর্নর মার্গারিতা গনসালেস সারাভিয়া বলেছেন, সন্দেহভাজনের সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি এবং হামলাটি ডাকাতির সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যাখ্যাটি তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
হামলার পর ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষ। ১৭ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরদিন তাকে কুয়াউতলা থেকেই আটক করা হয়।
ক্লডিয়ার হত্যাকাণ্ড মেক্সিকো ও স্পেনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মেক্সিকোর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও নীরব সমাবেশ করে বিচার এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসও হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে স্প্যানিশ সরকারের যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







