News Ticker
221.png

ফিলিপাইনে বাবার পিস্তল চুরি করে স্কুলে হামলা চালাল কিশোর, নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৮

শেয়ার

শেয়ার

ফিলিপাইনে বাবার পিস্তল চুরি করে স্কুলে হামলা চালাল কিশোর, নিহত ৩
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও হামলাকারী কিশোরসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাউথ কোটাবাতো প্রদেশের বাঙ্গা শহরের বাঙ্গা ন্যাশনাল হাই স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ১৬ বছর এবং সে ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গুলিবর্ষণের পর সে নিজেকেও গুলি করে। নিহত দুই শিক্ষার্থীর বয়স ছিল ১৪ বছর। আহতদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাঙ্গা শহরের মেয়র অ্যালবার্ট পালেনসিয়ার তথ্য অনুযায়ী, কিশোরটি তার বাবার মালিকানাধীন একটি ৯ মিমি পিস্তল নিয়ে স্কুলে যায়। তার বাবা ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মী। বাড়িতে একটি নিরাপদ ভল্টে অস্ত্রটি রাখা ছিল বলে জানা গেছে। কিশোরটি সেই ভল্ট ভেঙে অস্ত্রটি বের করে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে কিশোরটি কয়েকজন বন্ধুকে বাড়ি চলে যেতে বলেছিল এবং দুপুরের পর সে কিছু একটা করবে বলে সতর্ক করেছিল। বন্ধুরা বিষয়টিকে তার রসিকতা হিসেবে নিয়েছিল বলে মেয়র জানিয়েছেন।

দুপুরের পর নিজের শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে সে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মেয়রের হিসাবে, মোট ১০ জন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর অস্ত্রের ম্যাগাজিন পরিবর্তন করে কিশোরটি নিজেকে গুলি করে। 

হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা কিশোরটির অনলাইন কর্মকাণ্ডও পরীক্ষা করছেন। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেয়র বলেন, কিশোরটি একটি অনলাইন ‘ট্রু ক্রাইম’ কমিউনিটিতে পোস্ট করেছিল। ওই অনলাইন গোষ্ঠীর সঙ্গে হামলার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা একই সঙ্গে জানিয়েছেন, কিশোরটি স্কুলে সক্রিয় ছিল এবং তাকে নিয়ে আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট সহিংসতার সতর্কতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফিলিপাইনে চলতি বছরের জুনের পর এটি স্কুলে তৃতীয় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা বলে জানিয়েছে রয়টার্স। জুনে ত্যাকলোবান শহরের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গুলিতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিল। আগস্টে জাম্বোয়াঙ্গায় এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে আরেক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে; পরে ওই হামলাকারীও আত্মহত্যা করে। 

সাউথ কোটাবাতোর গভর্নর রেনালদো তামায়ো অভিভাবকদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের নাগালের বাইরে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাজারো শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়; অস্ত্রের নিরাপদ সংরক্ষণেও অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। 

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে তা স্কুলে নিয়ে যেতে পারল, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer