সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী বিরোধপূর্ণ আবেই অঞ্চলে দুই গোত্রের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত এবং আরও ৮২ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী UNISFA এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার আবেই শহরের আমিয়েত কমন মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর আগে একই সপ্তাহে দুই সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে পৃথক ঘটনায় হত্যার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়।
সংঘর্ষে জড়িয়েছে নগক ডিঙ্কা (Ngok Dinka) ও মিসেরিয়া (Misseriya) সম্প্রদায়ের সদস্যরা। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আবেই অঞ্চলের জমি, পশুর চারণভূমি ও পানির উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
মিসেরিয়া মূলত সুদানের আরব যাযাবর পশুপালক জনগোষ্ঠী। শুষ্ক মৌসুমে তারা পশুর জন্য চারণভূমি ও পানির সন্ধানে দক্ষিণ দিকে আবেই অঞ্চলে প্রবেশ করে। অন্যদিকে নগক ডিঙ্কারা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে অতীতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
সহিংসতার পর আমিয়েত বাজার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী UNISFA। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
UNISFA-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গণেশ কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, দুই সম্প্রদায়ের নেতারা সংলাপ ও শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঠেকানো এবং প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আবেই তেলসমৃদ্ধ একটি অঞ্চল, যার ওপর সুদান ও দক্ষিণ সুদান—উভয় দেশই দাবি করে আসছে। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পরও অঞ্চলটির চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারিত হয়নি। ফলে এখানে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাতও নিয়মিত ঘটে।
জাতিসংঘের UNISFA মিশনে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ ও সামরিক সদস্য রয়েছে। তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আবেই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা এখনো রয়েছে। জাতিসংঘ দুই সম্প্রদায়ের নেতাদের সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন:







