নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় Niger State-এর রাজধানী Minna-তে হেফাজতে থাকা ৩৭ জন সন্দেহভাজন অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার অবৈধ সোনার খনির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছিল Nigeria Security and Civil Defence Corps (NSCDC)। বৃহস্পতিবার আটককেন্দ্রে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
NSCDC-এর Niger State কমান্ড প্রথমে ধারণা করেছিল, কোনো ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে এই মৃত্যুগুলো হয়ে থাকতে পারে। তবে সংস্থাটি একই সঙ্গে জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মৃতদেহগুলো চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার একজন জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী দাউদা শেহু ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। তার দাবি, প্রায় ৬৫ জনকে একটি ছোট ও অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচলযুক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে ভেতরে প্রচণ্ড গরম ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে আটক ব্যক্তিরা বাইরে থেকে বাতাস পাওয়ার চেষ্টা করেন।
শেহুর বক্তব্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা দরজায় আঘাত করে নিরাপত্তাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে AFP-এর দেখা একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত ভিড় ও অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য চিকিৎসা পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন।
নাইজেরিয়ার Niger State-এর গভর্নর Umaru Bago জানিয়েছেন, নিহতদের অনেকেই অল্পবয়সী। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরও ছিল। অবৈধ খনিতে কাজ করতে গিয়ে তারা আটক হয়েছিল বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। কয়েকজন স্বজন আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করা এবং তাদের খাবার দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর Niger State পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে NSCDC-এর Niger State কমান্ড্যান্ট Suberu Siyaka Aniviye-কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট Bola Ahmed Tinubu ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
৩৭ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর Minna-তে বিক্ষোভ শুরু হয়। শুক্রবার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে ১২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন নাইজেরিয়া অবৈধ খনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের মতে, অবৈধ খনি কার্যক্রম পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্বের ওপরও প্রভাব ফেলছে। কিছু বিশ্লেষক অবৈধ খনি থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন।
সরকারি সংস্থা প্রথমে সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা বললেও একজন জীবিত আটক ব্যক্তি অতিরিক্ত ভিড়, গরম ও বায়ু চলাচলের অভাবের অভিযোগ করেছেন। ফলে ৩৭ জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন। চিকিৎসা পরীক্ষা ও সরকারি তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো একটি কারণকে চূড়ান্ত বলে দাবি করা যাচ্ছে না।
সূত্র: এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







