News Ticker
221.png

হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১৯

শেয়ার

শেয়ার

হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি প্রধান মার্কিন গণমাধ্যম—CNN, MS NOW এবং Politico—কে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

ট্রাম্পের দাবি, এসব গণমাধ্যম তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে ‘ফেক নিউজ’ বা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমকে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।

ট্রাম্পের ঘোষণায় থাকা তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো—

  • CNN — মার্কিন কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক

  • MS NOW — সাবেক MSNBC

  • Politico — মার্কিন রাজনৈতিক সংবাদ ও নিউজলেটার প্রতিষ্ঠান

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শনিবার থেকে প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ঘোষণার পর শুক্রবার বিকেলেও ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের মাঠে কাজ করতে দেখা যায়।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে অভিযোগ করেন, ওই তিন গণমাধ্যম তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ‘ফেক নিউজ’ প্রকাশ করছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনকে নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করেননি।

পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি সাম্প্রতিক কোনো একক ঘটনার কারণে নয়; বরং গত কয়েক বছরের সংবাদ কভারেজকে তিনি এর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

Politico-কে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে ট্রাম্প মার্কিন সরকারের প্রতিষ্ঠানটির সাবস্ক্রিপশনে ব্যয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর CNN বলেছে, তারা হোয়াইট হাউস কভার করা তাদের সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সরকারি বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার রয়েছে তাদের। 

Politico-ও জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখবে এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

MS NOW তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবিধানের First Amendment সংবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন বলেছেন, কোনো গণমাধ্যমের সংবাদ কভারেজ পছন্দ না হওয়ার কারণে তাকে সরকারি প্রবেশাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হলে তা সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। 

তবে হোয়াইট হাউসের কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা সীমিত প্রেস পুলে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণভাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সুবিধা থেকে কোনো গণমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার আইনি প্রশ্ন এক নয়। ফলে নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পরিধি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নতুন নয়। ২০২৫ সালে Associated Press (AP)-এর সাংবাদিকদের কিছু প্রেস ইভেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও CNN-এর সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছিল; পরে আইনি লড়াইয়ের পর তিনি আবার প্রবেশাধিকার পান। 

ট্রাম্পের ঘোষণার পরও শুক্রবার বিকেলে CNN, MS NOW ও Politico-র সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে কাজ করতে দেখা যায়। ফলে ঘোষণাটি ঠিক কীভাবে এবং কতটা কার্যকর হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথা বলেছে এবং আইন বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি আদালতে গড়ালে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক প্রবেশাধিকার এবং প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে। 

সূত্র: রয়টার্স

ChannelNRB Footer