ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ড্রোন, সাইবার হামলা, নাশকতা ও সীমান্তঘেঁষা সামরিক তৎপরতার অভিযোগ সামনে আসায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের একটি কারণ পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সতর্কবার্তা। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনকে সহায়তা করা ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের ভূখণ্ডে রাশিয়া ড্রোন বা রকেট ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড’ হামলা চালাতে পারে। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য হামলাগুলোকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে।
লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট এডগারস রিঙ্কেভিচস সতর্ক করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে, ইউরোপের অনেক দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তাঁর মতে, ইউরোপ ও ন্যাটোর কিছু দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে।
এর মধ্যেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রুশ-সম্পৃক্ত নাশকতা ও সাইবার হামলার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ১৮ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রুশ ‘হাইব্রিড হুমকি’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র হয়েছে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষায় নতুন পরিকল্পনার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে একই সময়ে পুতিন ইউরোপের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ১৯ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে তিনি বলেন, রাশিয়ার ইউরোপ বা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই এবং মস্কো ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে আগ্রহী। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইউরোপীয় নেতা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে নিজেদের নীতির justification হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এর আগে ইউক্রেনে ইউরোপীয় সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও পুতিন সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো সেনা পাঠালে সেটিকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এ মুহূর্তে ইউক্রেনের বাইরে ইউরোপে পূর্ণমাত্রার রাশিয়া-ন্যাটো যুদ্ধ শুরু হয়েছে—এমন তথ্য নেই। বরং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে ইউরোপীয় নেতারা সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। একই সময়ে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আগ্রহের কথাও বলছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:







