News Ticker
221.png

উবার ড্রাইভারের হেনস্থায় তরুণীর মৃত্যু, পরিবারকে ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৫৪

শেয়ার

শেয়ার

উবার ড্রাইভারের হেনস্থায় তরুণীর মৃত্যু, পরিবারকে ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ
ছবি: সংগৃহীত

উবার চালকের আচরণের পর মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও সংশ্লিষ্ট চালককে ওই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়।

মৃত তরুণীর নাম এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার। ২০২৩ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে ঘটনাটি ঘটে। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে পাঁচ দিনব্যাপী সালিশি শুনানির পর ক্ষতিপূরণের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। 

২০২৩ সালের ওই রাতে এমিলি ও তার বন্ধু লুনা মুর বাইরে সময় কাটানোর পর বাড়ি ফেরার জন্য উবার ডাকেন। গাড়িতে ওঠার পর লুনা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গাড়ির ভেতরে বমি করেন।

এ নিয়ে চালক ভু ট্রানের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। চালক গাড়ি পরিষ্কারের জন্য অর্থ দাবি করেন এবং পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ৭৩ নম্বর মহাসড়কের একটি বিপজ্জনক স্থানে গাড়ি থামিয়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন।

সালিশি নথি অনুযায়ী, জায়গাটি ছিল মহাসড়ক ও একটি এক্সিট র‌্যাম্পের মাঝের ‘গোর পয়েন্ট’—যেখানে গাড়ি থামানো নিরাপদ বা বৈধ ছিল না বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।

গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর এমিলি মহাসড়কের দিকে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

সালিশি সিদ্ধান্তে বলা হয়, চালক চাইলে কাছাকাছি ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট ব্যবহার করে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন। কিন্তু তিনি মহাসড়কের বিপজ্জনক স্থানে যাত্রীদের নামিয়ে দেন।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ট্রানের গাড়ি এমিলির কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায়। তবে তিনি সেখানে থেমে জরুরি সহায়তা নেওয়ার পরিবর্তে পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন এবং পরে উবারের সঙ্গে গাড়ি পরিষ্কারের খরচ নিয়ে যোগাযোগ করেন।

তবে উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোম্পানি সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও উবারকে ওই ঘটনার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত নয়। কোম্পানির ভাষ্য, তারা যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগের প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। 

সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে প্রত্যেককে ২ কোটি ডলার করে, মোট ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, তারা এই অর্থের একটি অংশ মেয়ের স্মৃতি রক্ষায় এবং রাইড-শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগে ব্যবহার করতে চায়। 

এমিলির বন্ধু লুনা মুরও আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার পাওয়ার সিদ্ধান্ত পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলায় উবারের অন্যতম যুক্তি ছিল, চালকরা স্বাধীন ঠিকাদার হওয়ায় চালকের কর্মকাণ্ডের জন্য কোম্পানিকে দায়ী করা উচিত নয়। কিন্তু সালিশকারীর সিদ্ধান্তে এ যুক্তি গ্রহণ করা হয়নি।

সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের কর্মকাণ্ডের জন্য vicariously liable বা পরোক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার Proposition 22-এর অধীনে চালকদের স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হলেও, এই ঘটনায় উবারকে দায়মুক্ত করে না—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। 

তবে এটি একটি ব্যক্তিগত সালিশি সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ মামলার জন্য বাধ্যতামূলক আইনি নজির তৈরি করে না।

এমিলির বাবা-মা জানিয়েছেন, অর্থ দিয়ে মেয়েকে ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাদের বক্তব্য, এই ঘটনার মাধ্যমে রাইড-শেয়ারিং সেবায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও চালকদের জবাবদিহির বিষয়টি সামনে আসুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

সূত্র: এপি নিউজ 

ChannelNRB Footer