News Ticker
221.png

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪৫.১ বিলিয়ন ডলার, কংগ্রেসকে জানালো পেন্টাগন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৩

আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৪

শেয়ার

শেয়ার

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪৫.১ বিলিয়ন ডলার, কংগ্রেসকে জানালো পেন্টাগন
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসকে দেওয়া সর্বশেষ হিসাবের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। 

পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধসংক্রান্ত ব্যয় ছিল ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হিসেবে আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। 

নতুন এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (CBO) পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। CBO ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল।

এর আগে জুলাইয়ে পেন্টাগন যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিল। ফলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সরকারি হিসাবে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

পেন্টাগনের কংগ্রেসে দেওয়া নথি অনুযায়ী, যুদ্ধের ব্যয়ের বড় একটি অংশ যাচ্ছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পর সেগুলো পুনরায় সংগ্রহ বা প্রতিস্থাপনে। বোমা, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্রের ব্যয় মোট হিসাবের বড় অংশ বলে পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে জ্বালানি, যুদ্ধকালীন ভাতা, বিমান পরিচালনা, চিকিৎসা ও যন্ত্রাংশের মতো খাতও রয়েছে। পেন্টাগনের একটি কংগ্রেশনাল হিসাব অনুযায়ী, ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের হিসাবে পরিচালন ব্যয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয়—দুই ধরনের খরচই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পেন্টাগনের দেওয়া ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের হিসাবকে যুদ্ধের পূর্ণ আর্থিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এই হিসাবের মধ্যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ভবন মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই।

এ ছাড়া সামরিক অভিযানের বিভিন্ন পরোক্ষ ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবও কংগ্রেসকে দেওয়া হয়নি। ফলে যুদ্ধের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। 

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, ১ আগস্টের পরও যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ব্যয় আনুমানিক ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে মাসিক ব্যয় আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

CBO আরও সতর্ক করেছে, যুদ্ধের বাড়তি ব্যয় ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

পেন্টাগনের নতুন হিসাব এমন সময়ে প্রকাশ হলো, যখন ইরান যুদ্ধের সামরিক ও আর্থিক ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসে বিস্তারিত তথ্যের চাহিদা রয়েছে। আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের সরাসরি ব্যয়ের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো মেরামত এবং অন্যান্য পরোক্ষ ব্যয়ের হিসাবও জানতে চেয়েছেন। 

ChannelNRB Footer