ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি দ্রুতগামী নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চালানো এ হামলায় নৌযানটিতে থাকা চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড (SOUTHCOM) জানিয়েছে, নৌযানটি পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচল করছিল। তাদের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নৌযানটির মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হামলা চালানো হয়। অভিযানে নিহত চারজনকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ‘নারকো-সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সাউদার্ন কমান্ডের প্রকাশ করা ভিডিওতে একটি চলন্ত নৌযান এবং এরপর বিস্ফোরণের মতো একটি ঝলক দেখা যায়। মার্কিন বাহিনী নৌযানটিকে মাদক পাচারের পরিচিত রুটে চলাচলকারী বলে দাবি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত প্রায় এক বছর ধরে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ওয়াশিংটন এসব গোষ্ঠীকে ‘নার্কোটেররিস্ট’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে।
শনিবারের হামলার মাত্র ১০ দিন আগেও ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরেকটি নৌযানে হামলার কথা জানিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওই ঘটনায় তিনজন নিহত হন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর হিসাবে, চলমান এই অভিযানের শুরু থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযান লক্ষ্য করে ৬৯টি হামলায় অন্তত ২৩১ জন নিহত হয়েছেন।
তবে এসব সামরিক হামলা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি রয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলো মাদক বহন করছিল—এমন সরাসরি প্রমাণ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ করা হয়নি। কিছু মানবাধিকার সংগঠন এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সর্বশেষ হামলাতেও মার্কিন বাহিনী নৌযানটিতে মাদক থাকার কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি। ফলে মাদক পাচারের অভিযোগ এবং সামরিক হামলার আইনগত ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সূত্র: এপি নিউজ
আরও পড়ুন:







