News Ticker
221.png

পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোয় উত্তর কোরিয়ায় ১৩৯৯ ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪১

শেয়ার

শেয়ার

পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোয় উত্তর কোরিয়ায় ১৩৯৯ ভূমিকম্প
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে দেশটির প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকম্পীয় কার্যক্রম বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ১ হাজার ৩৯৯টি স্থানীয় ভূমিকম্প শনাক্ত হয়েছে। 

গবেষণাটি দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও চীনের চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Science-এ ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার পুংগেরি পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের নিচে অবস্থিত মাউন্ট মানতাপ এলাকায় ভূমিকম্পীয় কার্যক্রম ২০১৭ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষার পর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়া প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর ২০১৭ সালের ষষ্ঠ ও শেষ পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ওই এলাকায় প্রায় ৬০টি ভূমিকম্প শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের পরীক্ষার পর প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি ভূমিকম্প শনাক্ত করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের বিস্ফোরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ভূমিকম্পের কার্যক্রম বাড়তে শুরু করে এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত এর মাত্রা ও ঘনত্ব বাড়তে থাকে।

গবেষকদের ধারণা, বারবার ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে মাউন্ট মানতাপের অগভীর ভূত্বকে ফাটল ও ক্ষতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে আশপাশের ভূগর্ভস্থ ফল্ট বা ভূ-চ্যুতির ওপর চাপের বণ্টনও পরিবর্তিত হয়। এর ফলে আগে তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা ফল্টগুলো ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। 

গবেষণায় শনাক্ত ভূমিকম্পগুলোর বেশিরভাগই ছিল অগভীর। সবচেয়ে শক্তিশালী স্থানীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩.৪। গবেষকদের হিসাবে, সংশ্লিষ্ট প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ফল্ট অঞ্চলটি একসঙ্গে সক্রিয় হলে সর্বোচ্চ প্রায় ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি একটি গবেষণাভিত্তিক সম্ভাব্যতা—ভবিষ্যতে এমন ভূমিকম্প ঘটবেই, এমন পূর্বাভাস নয়।

উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে পুংগেরি এলাকায় মোট ছয়টি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা CTBTO-ও এসব পরীক্ষার ভূকম্পনগত সংকেত শনাক্ত করেছিল। সর্বশেষ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পরীক্ষাটি হয় ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। 

গবেষকদের মতে, সাধারণত বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট ভূমিকম্পীয় কার্যক্রম সময়ের সঙ্গে কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষাস্থলে ২০১৭ সালের বিস্ফোরণের পর উল্টো কয়েক বছর ধরে ভূমিকম্পের সংখ্যা ও শক্তি বেড়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবই নতুন গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

 

ChannelNRB Footer