জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদা। একসময় ছিলেন দেশটির সরকারপ্রধান, কিন্তু রাজনীতির শীর্ষ পদে থাকার পরও বদলায়নি তাঁর দীর্ঘদিনের জনসংযোগের ধরন। প্রায় ৪০ বছর ধরে রেলস্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের হাতে নিজেই রাজনৈতিক প্রচারপত্র ও নিউজলেটার তুলে দিচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি আবারও জাপানের চিবা অঞ্চলের মিনামি-ফুনাবাশি স্টেশনে সকালে যাত্রীদের মধ্যে প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা যায় নোদাকে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্টেশনের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হাতে পত্রিকা ও প্রচারসামগ্রী তুলে দেন। তাঁর সরকারি কর্মসূচির তালিকাতেও এ ধরনের স্টেশনভিত্তিক কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে।
নোদার এই জনসংযোগের শুরু প্রায় চার দশক আগে। ১৯৮৬ সালে জাতীয় রাজনীতির বড় কোনো পদে না থেকেও তিনি রেলস্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রচারপত্র বিতরণ শুরু করেন।
এর এক বছর পর, ১৯৮৭ সালে তিনি চিবা প্রিফেকচারাল অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৩ সালে জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হন। ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান শক্ত হয় এবং তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইয়োশিহিকো নোদা। দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালনের পরও স্টেশনকেন্দ্রিক জনসংযোগের পুরোনো অভ্যাস তিনি ধরে রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে যে পদ্ধতিতে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছাতেন, সেই একই পদ্ধতিতে পরবর্তী সময়েও তাঁকে দেখা গেছে। ভোরে স্টেশনে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাদের হাতে নিজের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া তাঁর নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ হয়ে আছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নোদার বিতরণ করা প্রচারপত্রে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে দুর্যোগবিষয়ক বিমা, শিশু সহায়তা এবং প্রিফেকচার পর্যায়ের সংস্কারের মতো বিষয়ও রয়েছে।
স্টেশনে তাঁর এই উপস্থিতি মূলত সরাসরি জনসংযোগের একটি পদ্ধতি। ব্যস্ত সময়ে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলা, তাদের হাতে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে মতামত শোনা—এভাবেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে আসছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও স্টেশনে নোদাকে অনেক সময় সাধারণ একজন স্থানীয় রাজনীতিকের মতোই দেখা যায়। সাম্প্রতিক উপস্থিতির বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ তাঁকে চিনে প্রচারপত্র নিয়েছেন, আবার কেউ কোনো বিশেষ গুরুত্ব না দিয়েই পাশ দিয়ে চলে গেছেন।
তবে নোদার জন্য স্টেশনে দাঁড়ানোর বিষয়টি নতুন কোনো প্রচারণা কৌশল নয়। এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই চলে আসা একটি দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাস।
১৯৮৬ সালে স্টেশনে প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে যে জনসংযোগ শুরু করেছিলেন নোদা, প্রায় চার দশক পরও সেটি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে এসেছেন, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
তারপরও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সেই পুরোনো পদ্ধতি বদলাননি তিনি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও তাঁর সরকারি কর্মসূচিতে স্টেশনে সকালের এ ধরনের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:







