কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে ২০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন শহর ভিলা দে লেইভার কাছে সান মার্কোস পাহাড়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
দাবানলের ধোঁয়া ও আগুন ভিলা দে লেইভার কেন্দ্রীয় এলাকা থেকেও দেখা যাচ্ছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্থানীয় দমকলকর্মীদের পাশাপাশি বাসিন্দা, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং রাজধানী বোগোতা থেকে আসা উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। প্রায় ২৫০ জন লোক স্থলভাগে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নিয়েছেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথেও অভিযান চালানো হচ্ছে। বয়াকা বিভাগের প্রশাসন থেকে দুটি উড়োজাহাজ এবং কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। বোগোতা থেকেও দমকলকর্মীদের একটি দল অভিযানে যোগ দিয়েছে।
তবে তীব্র বাতাস এবং ধোঁয়ার কারণে আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় আগুনের একাধিক সক্রিয় ফ্রন্ট তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেলে দাবানলটির প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী বাতাস নতুন করে আগুন ছড়িয়ে দেয় এবং বসতবাড়ির কাছাকাছি এলাকায় কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ফ্রন্ট তৈরি হয়।
ভিলা দে লেইভা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘পাবলিক ক্যালামিটি’ বা জরুরি দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সোমবার স্থানীয় স্কুলগুলোর ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে।
আগুনের শিখা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে কয়েকটি হোটেল ও পর্যটন স্থাপনার দিকে এগিয়ে গেলে সেখান থেকেও মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি হোটেল থেকে প্রায় ২০ জন অতিথিকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে এএফপি। আরেকটি হোটেল থেকে ২৯ জনকে সরিয়ে নেওয়ার তথ্যও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কিছু পর্যটন স্থাপনার কটেজের ছাদ পর্যন্ত আগুন পৌঁছে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দমকলকর্মী ও উদ্ধারকারী দলগুলো এসব স্থাপনা রক্ষায় কাজ করছে।
দাবানলটি কীভাবে শুরু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে কলম্বিয়ার পরিবেশমন্ত্রী ফাবিও আরখোনা বলেছেন, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তদন্ত করছে।
আগুনের সূত্র সম্পর্কে তথ্য দিতে স্থানীয় প্রশাসন ৪৫ মিলিয়ন কলম্বিয়ান পেসো পুরস্কার ঘোষণা করেছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কলম্বিয়ার আন্দিজ অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে দাবানল নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এবারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে উচ্চ তাপমাত্রা, খরা ও কম আর্দ্রতা। প্রতিবেদনে বর্তমান এল নিনো আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিকেও দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম অনুকূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিলা দে লেইভা কলম্বিয়ার ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। ঔপনিবেশিক স্থাপত্য ও পাথরে বাঁধানো রাস্তার জন্য পরিচিত এই শহরে বছরে ১০ লাখের বেশি পর্যটক আসেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দাবানলটি স্থানীয় বনভূমির পাশাপাশি পর্যটন এলাকা ও আশপাশের বসতিতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি
আরও পড়ুন:







