News Ticker
221.png

শ্রীলঙ্কায় বৃহত্তম গণকবরের সন্ধান, মিলেছে ৫৭২ কঙ্কাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৬

শেয়ার

শেয়ার

শ্রীলঙ্কায় বৃহত্তম গণকবরের সন্ধান, মিলেছে ৫৭২ কঙ্কাল
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলীয় জাফনা এলাকায় একটি গণকবর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৭২ জনের কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে এ ঘটনাকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় গণকবরের সন্ধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের মধ্যে শিশু ও নবজাতকের কঙ্কালও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

জাফনার কেম্মানি এলাকায় (Chemmani) একটি শ্মশান সম্প্রসারণের কাজ চলার সময় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম মানবদেহের হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর আদালতের নির্দেশে সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ফরেনসিক তদন্ত শুরু হয়। খননের তৃতীয় ধাপ আগস্টে শেষ হওয়ার সময় ৫৭২ ব্যক্তির কঙ্কালাবশেষ শনাক্ত করা হয়।

কেম্মানি এলাকায় শ্মশান সম্প্রসারণের জন্য শ্রমিকরা মাটি খনন করছিলেন। এ সময় মাটির নিচে মানুষের হাড় পাওয়া গেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে আদালতের তত্ত্বাবধানে খননকাজ শুরু হয়।

খননের সময় কঙ্কালাবশেষের পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রীও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চুড়ি, স্কুলব্যাগ, শিশুর দুধের বোতল ও অন্যান্য জিনিস রয়েছে। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও থাকতে পারেন। তবে উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

কেম্মানি গণকবরের সন্ধান শ্রীলঙ্কার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শ্রীলঙ্কায় ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সরকারি বাহিনী ও তামিল বিদ্রোহী সংগঠন এলটিটিইর মধ্যে দীর্ঘ সংঘাত চলে। ওই সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হন। কেম্মানি এলাকাটিও ওই সংঘাতের সময় নিখোঁজ ও হত্যার অভিযোগের সঙ্গে বহু বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে।

তবে বর্তমান গণকবরের সব কঙ্কাল যে গৃহযুদ্ধের সময় নিহত ব্যক্তিদের—এমন সিদ্ধান্ত এখনো তদন্তকারীরা দেননি। দেহাবশেষের বয়স, পরিচয় ও মৃত্যুর সময় নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

কেম্মানিতে গণকবরের অভিযোগ নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত এক সাবেক সেনাসদস্য আদালতে দাবি করেছিলেন, ওই এলাকায় শত শত মানুষের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল।

তার বক্তব্যের পর ১৯৯৯ সালে কেম্মানিতে খনন অভিযান চালানো হয় এবং বেশ কয়েকটি মানবদেহের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে সেই তদন্তের পরও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত থেকে যায়। 

বর্তমান খননস্থলটি আগের ওই অনুসন্ধানের স্থান এবং ১৯৯০-এর দশকের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এলাকার কাছাকাছি বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কেম্মানির সমাধিস্থ করার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু দেহাবশেষ যেভাবে অগভীর ও ঘনভাবে পাওয়া গেছে, তা প্রচলিত হিন্দু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা সাধারণ সমাধি প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে এ পর্যবেক্ষণ থেকে মৃত্যুর ধরন বা দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। বিষয়টি এখন ফরেনসিক ও বিচারিক তদন্তের অংশ।

উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ বর্তমানে আদালতের তত্ত্বাবধানে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেহাবশেষের পরিচয় মিলিয়ে দেখতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিস্তারিত ফরেনসিক বিশ্লেষণের প্রস্তুতি চলছে।

প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিকের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, তদন্তের একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিছু নমুনা বয়স ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের জন্য বিদেশের পরীক্ষাগারেও পাঠানো হতে পারে। 

ChannelNRB Footer