পানির নিচে সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ চীন সাগরের পানির প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট গভীরে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেখিয়েছে ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। গবেষণাটিকে পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম বাস্তবসম্মত পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
গবেষণার ফলাফল ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল Joule-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে প্রচলিত সিলিকন সোলার সেলের পরিবর্তে লিড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সৌরকোষ। পানির নিচে সূর্যালোকের তীব্রতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আলোর বর্ণালিও পরিবর্তিত হয়—বিশেষ করে লাল আলোর বড় অংশ পানিতে শোষিত হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে নীল-সবুজ আলোর সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারে এমন প্রশস্ত ব্যান্ডগ্যাপের পেরোভস্কাইট উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষকদের বড় পরীক্ষাটি করা হয় দক্ষিণ চীন সাগরে। পানির ২, ৬ ও ১০ মিটার গভীরে সৌর মডিউল স্থাপন করে দুই ঘণ্টা সূর্যালোকের মধ্যে পরীক্ষা চালানো হয়। ১০ মিটার গভীরে থাকা মডিউলটি দুই ঘণ্টায় ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা (mWh) বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, যা একটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ করা এবং এলইডি চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
তুলনায় ২ মিটার গভীরে একই পরীক্ষায় ১,৪১৬ mWh এবং ৬ মিটার গভীরে ৭৫২ mWh শক্তি সঞ্চিত হয়। অর্থাৎ গভীরতা বাড়ার সঙ্গে আলো কমে গেলেও সৌরকোষটি বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণাগারে ১০ মিটার গভীর পানির আলো অনুকরণ করে পরীক্ষায় ছোট আকারের পেরোভস্কাইট সৌরকোষ ৩৪.৭১ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়ার কনভার্সন দক্ষতা অর্জন করেছে। তবে এটি পরীক্ষাগারের নির্দিষ্ট আলো-পরিবেশের ফল; সমুদ্রে বাস্তব ব্যবহারের বিদ্যুৎ উৎপাদনকে এই একই দক্ষতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
গবেষণায় বড় আকারের মডিউলও পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষকেরা দেখাতে চেয়েছেন যে প্রযুক্তিটি শুধু ক্ষুদ্র ল্যাবরেটরি সেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তব পানির পরিবেশেও কাজ করতে পারে।
পানির নিচে সৌর প্যানেল বসানোর ক্ষেত্রে শুধু আলো পাওয়া নয়, আরও দুটি বড় সমস্যা রয়েছে—লবণাক্ত পানির ক্ষয় এবং পানির চাপ। এ কারণে গবেষকেরা সৌরকোষকে বাটাইল রাবার, কভার গ্লাস এবং স্বচ্ছ ইপোক্সি রেজিনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করেছেন। পরীক্ষায় সুরক্ষাব্যবস্থাটি পানির নিচের পরিবেশে ডিভাইসের স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
গবেষণার ত্বরিত বয়স-পরীক্ষা অনুযায়ী, ১০ মিটার গভীরতার অনুকরণ করা আলোতে সৌরকোষটির T80 আয়ু প্রায় ৫.৫ বছর হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। T80 বলতে সাধারণভাবে প্রাথমিক কর্মক্ষমতার ৮০ শতাংশ ধরে রাখার সময়কে বোঝানো হয়। এটি সরাসরি সমুদ্রে ৫.৫ বছর চলবে—এমন নিশ্চয়তা নয়; বাস্তব পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা এখনও প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:







